স্টাফ রির্পোটার :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবনগর এলাকায় বসবাসকারী কথিত এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল মিয়ার নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও অশালীন মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, সিলেট সাইবার আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় এবং উক্ত মামলার তদন্তভার ডিবির উপর ন্যাস্ত করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েই গ্রেফতারে নামেন জেলা গোয়েন্দা সংস্থার একটি চৌকস দল।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে একদল (ডিবি) পুলিশ দিনব্যাপী অভিযান চালায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল অনুমান ৫ টায় পুরান থানার সামনের একটি মার্কেট থেকে তাকে আটক করে।
এসময় তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিভাইস পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে তার নিজস্ব আইডি ও বিভিন্ন ফেক আইডি থেকে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল মিয়ার নামে অশালীন ও আপত্তিকর পোস্ট স্যোশাল মিডিয়া ফেইসবুকে ছড়ানোর অভিযোগ এর সত্যতা পেলে তাকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
পরদিন বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা সুত্রে জানা যায়, পৌর শহরের বাড়ী জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল মিয়ার বিরুদ্ধে পৌর শহরের হবিবনগর এলাকায় বসবাসরত মোঃ তনজব আলীর ছেলে কথিত ফেসবুক সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলু সহ অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদ্বয় গত প্রায় ২ মাস পূর্ব থেকে জহিরুল ইসলাম লাল মিয়ার (বাংলায়) নাম ও ছবি ব্যবহার করে ফেইক আইডি বানিয়ে বিভিন্ন মহলসহ তার বিরুদ্ধে অশ্লীল-অশালীন পোস্ট ও কমেন্ট করে আসছিল।
এ ব্যাপারে জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, যার জিডি নং ৪২৩, তারিখ- ১১/০৩/২০২৬ ইং।
পরবর্তীতে গত ৮ মে থেকে এই ফেইসবুক চক্রটি আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিক জিলু নামের আইডি থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনির ক্যারিয়ার ধ্বংস ও সমাজে অপদস্ত করার জন্য ফেইসবুকে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে একের পর এক হুমকি দিতে থাকে।
পরবর্তীতে সরকার অ-অনুমোদিত তার ফেইসবুক পেইজ জগন্নাথপুর নামক টিভি থেকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত একটি কাল্পনিক সংবাদ প্রচার করে লাখ-লাখ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া অবশেষে সিলেট সাইবার আদালতের আশ্রয় নেন।
আদালত সকল কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে এই স্পর্শকাতর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জগন্নাথপুর থানাকে নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুনামগঞ্জ (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ দেন। যার নং ৮০/২৬ ইং।
জানা গেছে, কথিত নামধারী সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলু উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের তনজব আলীর ছেলে।
সে দীর্ঘদিন ধরে ওখানে এখানে বসবাস করে সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশার নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করে আসছে।
ফেসবুক জগন্নাথপুর টিভি নামক একটি চ্যানেলের পরিচয় দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার সম্মানিত ও ধর্ণাঢ্য ব্যাক্তিদের টার্গেট করে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি এবং ফেক আইডির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আসছিল কথিত এই ফেসবুক সাংবাদিক জিল।
এব্যাপারে তার সকল অপকর্মের বিচার দাবি করে, জগন্নাথপুর টিভিকে (ফেসবুক) আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply