বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ২৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। নদীতে পানির চাপে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে পাশে পাকা ধান রেখে ঘুমানোর উপায় নেই কৃষকদের তাই সারারাত ফসল রক্ষায় বাঁধ থেকে আরেক বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে কাটিয়েছেন জনসাধারন।
উপজেলার বিভিন্ন বেড়ী বাঁধ গুলো দেখা যায়, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, পাটলি ইউনিয়ন সহ পাইলগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন বেড়ী বাঁধে উপজেলার কয়েক শত কৃষকের প্রচেষ্টায় বোরোধান রক্ষায় তাদের নিঘুম রাত ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে হচ্ছে। একমাত্র বোরো ফসলের ওপর কৃষক সদস্যর পরিবারের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। ধান তুলতে পারলে ধারদেনা শোধ করে সারাবছর নিশ্চিন্তে চলতে পারবেন। ফসল তুলতে না পারলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
কৃষকেরা জানান, হাওরের ফসল রক্ষায় আমরা শতাধিক কৃষক সারারাত স্বেচ্ছায় নলুয়ার হাওরে কাজ করার চেষ্টা করতেছি। ফসল রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধগুলোর টেকসই ও মান সন্মত না হওয়ায় আমাদের কে নিঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। নদ নদীতে পানি বাড়ার চাপে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির শঙ্কা রয়েছে। কিছু কিছু জমিতে আধাপাকা ধান কাটতেছি। কেউ বা আবার বেড়িবাঁধে ঘুরে দেখছেন। আবার ঝুঁকিপুর্ন অংশে কাজ চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ২৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসির) মাধ্যমে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি বেড়িবাঁধ অতিরিক্ত পানির চাপে ঝুঁকিতে পড়ে। পিআইসি কমিটির সাথে এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে বাঁধ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন। রাতের আধাঁরে তেমন কাজ করা যায়নি। আজও কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের সাথে আমিও সারারাত হাওরে ছিলাম। তাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে আমি অভিভূত। তিনি বলেন সবাই মিলে আমরা চেষ্টা করছি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ রক্ষা করে ফসল উত্তোলনের।
Leave a Reply