বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উড়ে গেছে বহু ঘরের চালার টিন। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে সহস্রাধিক গাছপালা। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এলাকার কৃষকের বিভিন্ন জাতের ক্ষেত। বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ৩জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১জন।
বৃহস্পতিবার (পহেলা বৈশাখ) ভোরের দিকে উপজেলায় ওপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে শতাধিক আধাপাকা, কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও টিনের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যায়। উঠতি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ৩জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চকবানীপুর গ্রামের একই পরিবারের ৪জন সদস্য পাটলি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সুলেমানপুর গ্রামের ইউকে প্রবাসী বুলু মিয়ার বাড়ীতে দেখা শুনার দায়িত্বে ছিলেন। বাড়ীর কেয়ার টেকার হারুন মিয়ার টিন সেডের বসত ঘরে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন জাতের গাছ ঘরের উপর পরলে ঘরে থাকা হারুন মিয়ার স্ত্রী মৌসুমী বেগম (৪৫), হারুন মিয়ার মেয়ে মাহিমা বেগম (৪) হারুন মিয়ার ছেলে মো. হোসাইন (১), দোলেয়ার মিয়ার মেয়ে সেলিনা বেগম ঘুর্ণিঝড়ে গুরুতর আহত হন। আতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে ৩জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্য ঘোষনা করেন। অপর আহত সেলিনা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তিনি সুস্থ্য আছেন।
জনসাধারনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মাত্র কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অর্ধশত পরিবার খোলা আকাশের নিচে রয়েছে এখন। এলাকার কৃষকের বিভিন্ন জাতের ক্ষেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এছাড়া কৃষকের টমেটো ক্ষেত ও ধানী জমির ক্ষতি হয়েছে। এখন ঘরের উড়ে যাওয়া টিন খুঁজ পাচ্ছেন না মালিকরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মধু সূধন ধর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাটলি ইউনিয়নে টিন সেডের বসত ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন জাতের গাছ ঘরের উপর পড়ে ৪ জন আহত হয়েছিল। এর মধ্যে ৩জন নিহত হয়েছেন। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এখন সুস্থ্য আছেন।
Leave a Reply