স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় আব্দুল হামিদ (৫০) নামের এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে ।
এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠন করা ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি অবশেষে হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সকে দায়ী করে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে । তবে এ প্রতিবেদন থেকে বাদ পড়েছেন ডাক্তার সহ ৩ জন নার্স।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দাখিল করা প্রতিবেদনে উঠে আসে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত নার্স তাহমিনা বেগমের দায়িত্ব অবহেলার কথা। শোকজকৃত চিকিৎসক ও অন্য নার্সের দায়িত্ব অবহেলা বা গাফলতির বিষয়টি এই প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।
উল্লেখ্য: গত ৩ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১২ টায় শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে ছাতক উপজেলার ভাঁতগাও ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আবদুল হামিদ জগন্নাথপুর হাসপাতালে ভর্তি হন ।
ভর্তি হওয়ার পর থেকে রোগীর অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে চলে যায়।
রোববার সন্ধ্যার পর রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে প্রচন্ড যন্ত্রণায় তিনি চটপট করতে থাকেন।
তখন তার স্ত্রী জরুরী বিভাগের নার্সিং রুম বন্ধ পেয়ে ডাক্তার ও নার্সদের অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাননি।
এক পর্যায়ে দ্বিতীয় তলায় একজন নার্সকে পেয়ে তার স্বামীকে দেখতে অনেক কাকুতি মিনতি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে রেফার্ড করার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।
পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর রোববার রাত ১১ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুর খুলে ঢলে পড়েন।
একপর্যায়ে রোগীর অভিভাবক ও আত্মীয় স্বজনেরা ডাক্তার ও নার্সদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় একজন ডাক্তার ও চারজন নার্সকে সাময়িক ভাবে শোকজ করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
গঠন করা হয় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি একজন নার্সের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তবে শোকজকৃত ডাক্তার ও অন্য ৩ জন নার্স প্রতিবেদনে অধরা থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডাঃ মধু সুধন ধর বলেন, তদন্ত কমিটির রির্পোটে একজন নার্সের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়া হয়।
প্রতিবেদনটি সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply