স্টাফ রির্পোটার :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের একওয়ানকে নির্যাতনের মাধ্যমে লিবিয়ায় হত্যার ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ।
সোমবার (৩ অক্টোবর) নিহত একওয়ান মিয়ার বাবা তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ এনে ৪ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার সহ হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের একওয়ান মিয়া (২০) কে ইতালি পাঠানোর কথা বলে একই গ্রামের দালাল আলী হোসেন লিবিয়ায় হত্যা করেছে মর্মে আরো ৩ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, উক্ত মামলার ৪ জন আসামীর মধ্যে দু’জনই প্রবাসে। বাকি দু’জন পলাতক ।
তবে আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য : গত বছরের ১৩ এপ্রিল গ্রামের লিবিয়ায় অবস্থানরত চিন্হিত দালাল আলী হোসেনের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকায় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে লিবিয়ায় পাড়ি জমায় একওয়ান মিয়া।
সেখানে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে আটক হয় একওয়ান। সেখানে তার উপর চলতে থাকে অমানবিক নির্যাতন। মাফিয়া দালালদের হাত থেকে প্রাণ রক্ষার জন্য ৭ লাখ টাকা পাঠায় একওয়ানের পরিবার। চলতি বছরের ১৫ জুন আবারও ৫ লাখ টাকা দিলে ইটালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় দালাল আলী হোসেন। তবে টাকা লেনদেনে তার পরিবারের লোকজন সরাসরি জড়িত ছিল বলে একওয়ানের পরিবার জানায়।
কিছুদিন পর একওয়ানের বাবা দালালদের কাছে তার ছেলের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে তারা জানায়, একওয়ান ১৬ জুন মারা গেছে।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে তিন মাসের মাথায় গত বৃহস্পতিবার লিবিয়া ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় একওয়ানের মরদেহ দেশে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে সুরতহাল রির্পোটের পর একওয়ানের মরদেহ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
Leave a Reply