জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আকমল হোসেন (নৌকা) প্রতীকে ২৩৮৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তালহা আলম (খেজুরগাছ) প্রতীকে পান ২০০৮১।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন (মাইক) প্রতীকে ২১৯২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র (তালা) প্রতীকে পান ১৯২৫৫ ভোট।
সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুফিয়া খানম সাথী (ফুটবল) প্রতীকে ২৮৮৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী রীনা বেগম (কলস) প্রতীকে পান ২৬৪৬৯ ভোট।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয় ।
তবে ভোটারদের মধ্যে কোন আমেজ বা উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়নি।
বিশেষকরে এই প্রথম জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বয়স্ক ভোটাররা পড়েন ভোগান্তিতে।
ইভিএম মেশিনে আঙুলের চাপ না নেওয়ায় অনেকেই কেন্দ্র থেকে ফিরে আসেন।
স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ২য় তলার একটি বুথে কাজ না করায় কিছুক্ষন মেশিন বন্ধ ছিল ফলে ভোটদান থেকে অনেকেই বাড়ীতে ফিরে যান।
পরে অবশ্য মেশিনটি সচল করা হয়।
অভিযোগ ছিল, ভোটার লিস্টে গড়মিল । অনেক খুঁজাখুজির পরও ভোটার লিস্টে নাম পাননি অনেকেই।
উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তেমন না থাকায়, ভোট কাস্টিং কম হওয়ার আশংকা করেছেন সচেতন ভোটাররা।
তবে তুলনামূলক ভাবে ভোট তেমন কাস্টিং হয়নি।
৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯ জন।
এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৫ হাজার ৩শ ২৩ ও মহিলা ভোটার ৯৩ হাজার ৭শ ১৬ জন।
ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৮৯টি, ৫শ ২৯টি বুথে ভোট গ্রহণ একযোগে অনুষ্ঠিত হয় ইভিএমে।
এ উপজেলায় শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে ।
কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কেন্দ্রগুলিতে সার্বক্ষনিক তদারকিতে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কেন্দ্রগুলিতে মোবাইল টিম সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্নয়ে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।
চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মুক্তাদীর আহমেদ মুক্তা (আনারস) প্রতীকে পান ১৪০১৬ ভোট। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আতাউর রহমান (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পান ১৭৭৯ ভোট। আওয়ামীলীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্বাস চৌধুরী লিটন (ঘোড়া) প্রতীকে পান ১১৯৫ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক কৃতি ফুটবলার সৈয়দ তুহেল মিয়া (টিউবওয়েল) পান ১৩৬৩৪ ভোট।
উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি সালেহ আহমদ (চশমা) প্রতীকে পান ৯৯৫৩ ভোট এবং বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন লাকী (টিয়াপাখি) প্রতীকে পান ৫১৩৯ ভোট।
সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে অপর প্রার্থী সেলিনা বেগম (হাঁস) প্রতীকে পান ১৪৫৩০ ভোট।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার সিলেট ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা বেসরকারিভাবে উপরোক্ত ফলাফল ঘোষণা করে বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি।
Leave a Reply