ডেস্ক রিপোর্ট ::
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাবা ও ছেলে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে একসঙ্গে এসএসসি পাশ করেছেন।
তবে ফলাফলে বাবা জিপিএ-৫ পেলেও ছেলে পেয়েছে ৪.৮৬।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রকাশিত ফলাফলে পিতা-পুত্র একসঙ্গে এসএসসি পাশ করায় পরিবার ও এলাকায় আনন্দের বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিন নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তার পুত্র রাকিবুল হাসান রায়হানও জিপিএ-৪.৮৬ পেয়ে পাশ করে।
এখলাছ উদ্দিন নয়ন উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়ড়াউড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র।
তিনি গৌরীপুর উপজেলা শারীরিক প্রতিবন্ধী সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তিনি বলেন, তার স্ত্রী সমলা বেগমের আগ্রহ ও ইচ্ছার কারণেই তিনি আবারো খাতা-কলম নিয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যান।
তিনি দুই সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে আঁখি আক্তার গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্নাতক (অনার্স) সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
এখলাছ উদ্দিন নয়ন বায়ড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী করে গৌরীপুর আরকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৯৯৬ সালে।
শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি আর সেই সময় পরীক্ষার টেবিলে বসতে পারেননি। এবার বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেত্রকোনা জেলার মগরুল আদর্শ কারিগরি ইন্সটিটিউট থেকে তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষা দেন।
কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশান টেকনোলজি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। তার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৭৭ ইং।
তার ছেলে রাকিবুল হাসান রায়হান একই বোর্ডের অধীনে গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষা দেন। সে বিল্ডিং মেনটেন্যান্স বিভাগের নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষায় ৪.৮৬ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
পিতার কৃতিত্ব অর্জনে পুত্র রায়হান জানায়, বাবাকে নিয়ে আমি এক টেবিলে পড়েছি। একসঙ্গে রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে।
বাবার এ অর্জনে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।
Leave a Reply