1. : admin :
  2. sdfadas@email.em : :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এবার ২২৬টি মাদরাসার সকল শিক্ষার্থীই ফেল জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া’র জন্মদিন পালন জগন্নাথপুরে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুরে সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়ার জামিনে মুক্তি লাভ জগন্নাথপুরে কৃষি ঋণ বিতরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ব্যাপক প্রচারণা জগন্নাথপুরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, ফাইনাল বাইচে প্রস্তুত ৪ টি নৌকা জগন্নাথপুরে সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠন জগন্নাথপুর পৌরসভার ২২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার টাকার বাজেট পেশ জগন্নাথপুরে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবি শাখার উদ্যোগে মৌসুমী ফলচক্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন জগন্নাথপুরে দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রীজের উদ্বোধন : জনগনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ- এমপি কয়ছর আহমেদ

জগন্নাথপুরে আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি সহ নানা অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৬৫৪ দেখা হয়েছে

 

জহিরুল ইসলাম লাল ::

জগন্নাথপুর পৌর শহরের আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি সহ তাদের সাথে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ২৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে (১৫ ডিসেম্বর) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানাগেছে।

বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড রোডে ২০০১ ইং সনে নিজস্ব ভুমির উপর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম শফিকুল আহমদ ভুইয়া।
পিতা মরহুম আব্দুল খালিকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নাম করণ করা হয় আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফিকুল আহমদ ভূইয়া জীবিত থাকাবস্থায় অত্যান্ত সুনামের সহিত বিদ্যালয় পরিচালিত হয়ে আসছিল।

উক্ত বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাসকে নিয়োগ দেয়া হয়।
২০২০ সালে শফিকুল আহমদ ভূইয়া মৃত্যু বরণ করলে এ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হয়।

২০২২ সালের জানুয়ারীতে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিকুল আহমদ ভূইয়ার ছোট ভাই রফিকুল আহমদ ভূইয়াকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়।

সভাপতির চেয়ারে বসেই নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে সাবেক প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত সেলিম রেজাকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেন রফিকুল আহমদ ভূইয়া।
এতে ক্ষুব্ধ হন সাবেক ও বর্তমান কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে অর্থ আত্মসাৎ ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগে এই বিদ্যালয় থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান সভাপতি রফিকুল আহমদ সম্পুর্ণ বেআইনিভাবে, রেজুলেশন বহি পরিবর্তন ও সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পূনরায় নিয়োগ দেন।
অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক সেলিম রেজা যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মরতদের সাথে যৌন হয়রানি, নানা অনিয়ম- দুর্ণীতি সহ অর্থ আত্মসাতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এদিকে ২০২২ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে সাবেক কমিটির সদস্য রুবেল মিয়া ও এম নুরে আলম সাক্ষরিত আরেকটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল যা তদন্তাধীন রয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজেদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করেছে । বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র
মিজানুর রশীদ ভূইয়া জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। মেয়েদের কথা শুনে আমি লজ্জিত এবং বাকরুদ্ধ হয়েছি।
আমাদের মেয়েরা এ ধরনের শিক্ষকের কাছে কোন ভাবেই নিরাপদ নয়।
এ শিক্ষক জাতির জন্য কলঙ্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল আহমদ ভূইয়া বলেন, বিদ্যালয়টি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
কোন ষড়যন্ত্র স্কুলের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারবেনা। উত্তাপিত অভিযোগ অসত্য বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিকুল আহমদ ভূইয়ার সহধর্মিণী রুকসানা বেগম চৌধুরী বলেন, আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় স্কুলের কার্যক্রম সুনামের সহিত যেভাবে চালিয়ে গেছেন, এখন আর আগের মত নেই। বর্তমান সভাপতি অবৈধভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে বহিস্কৃত সাবেক প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে পূনরায় নিয়ে আসেন।
বিদ্যালয়টি এখন আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে নেই, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।

কমিটির সদস্য ও জগন্নাথপুর বাজার তদারক কমিটির সেক্রেটারী জাহির উদ্দিন বলেন, এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের আয়ার সাথেও যৌন হয়রানির একটি অভিযোগ আমরা সমাধান করে দিয়েছি।
তবুও তিনি সংশোধন হচ্ছেন না বরং মেয়ের মত ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণ করছেন যা কাম্য নয়।

আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক পৌর কমিশনার লুৎফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা ছেলে-মেয়ের মত। ছাত্রীদের অভিযোগ শুনে আমি লজ্জিত হয়েছি।
শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। জাতী এ ধরনের কাজ তাদের কাছ থেকে আশা করে না। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।

অভিযুক্ত শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করিনি। এটা একটা ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তিনি জানান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর দেখুন
All rights reserved ©2023 jagannathpurerdak
Design and developed By: Syl Service BD