স্টাফ রির্পোটার :
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সৎ ভাইয়ের ছেলেরা চাচার অংশে থাকা ৯ টি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পাশাপাশি সরলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভাতিজারা দীর্ঘদিন ধরে চাচার পৈতৃক সম্পত্তি জবর দখল করার পায়ঁতারায় লিপ্ত রয়েছে বলেও জানা গেছে ।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি (দিঘিরপাড়) গ্রামের মৃত আব্দুল মনির খানের ছেলে ওলিউর রহমান খান মুক্তি তার সৎ ভাই মৃত মহি উদ্দিন খান ময়ূরের ছেলে মুসলেহ উদ্দিন খান মামুন গংদের বাড়ী-ঘর না থাকায় মানবিক কারণে বাড়িতে থাকার জন্য জায়গা করে দেন।
কিছুদিন যেতে না যেতেই শুরু হয় বাড়ী দখলের নানান ষড়যন্ত্র।
এরই জের ধরে ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা।
এ নিয়ে একাধিকবার গ্রামে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ভাতিজা মুসলেহ উদ্দিন মামুন গংরা অমান্য করায় তা সমাধান হয়নি।
গত ৫ জানুয়ারি দুপুর ১ টায় মুসলেহ উদ্দিন খান মামুনের নেতৃত্বে তার ভাই মেহবুব খান, মোশাররফ হোসেন খান মারুফ সহ অঞ্জাততনামা লোকজন ওলিউর রহমান খান মুক্তির অংশে থাকা বিভিন্ন জাতের বড় ৯ টি গাছ প্রকাশ্যে কেটে ফেলে।
এ সময় চাচা ওলিউর রহমান খান মুক্তি এর কারণ জানতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এলাকায় উশৃংখল হিসাবে পরিচিত ভাতিজারা।
জোড়পূর্বক ৯ টি গাছ কর্তন করায় প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাড়ি মালিক থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানার এস আই সুহেল আহমদ সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে বাড়ি মালিক ওলিউর রহমান খান মুক্তি বলেন, তাদেরকে মানবিক কারণে বাড়িতে বসবাসের জায়গা দিয়েছিলাম।
এখন আমার বাড়ি-ঘর দখল করার পায়ঁতারায় লিপ্ত রয়েছে।
তারা আমার দখলীয় ও রোপণকৃত ৯ টি গাছ জোরপূর্বক কর্তন করেছে।
উক্ত বিবাদীরা ইতিপূর্বে আমার খড়ের ঘরে আগুন দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছিল।
বর্তমানে তাদের নানা অত্যাচারসহ হুমকিজনিত কারণে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উল্লেখ্য : ২০২০ সালের (২৬ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টায় ঘর দখলে নিতে চাচা ওলিউর রহমান খান মুক্তির খড়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় ভাতিজারা। আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ ঘটনায় ঐদিন রাতেই জগন্নাথপুর থানার এস আই ভোলানাথ সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় উল্লেখিত ভাতিজাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। যাহা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
Leave a Reply