স্টাফ রির্পোটার ::
এনটিআরসিএ কর্তৃক ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আলাদা গণবিজ্ঞপ্তির দাবীতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষকদের পক্ষে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কামরাখাই জয়নগর দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ রবিউল হাসান এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, লক্ষাধিক শিক্ষক দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শিক্ষকতা করছেন। এর মধ্যে একটা বিশাল অংশ মহিলা শিক্ষক।
মহিলা শিক্ষকরা পরিবার ও নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের অন্য প্রান্তে শিক্ষকতা করার কারণে নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে অনেকেই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে ইতোপূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনও হয়েছে।
বিশেষকরে দেশের একপ্রান্ত হতে অন্যপ্রান্তে শিক্ষকতায় বড় বাধা হয়ে দাড়ায় নিজ এলাকার আঞ্চলিক ভাষা।
এতে পাঠদান করা অত্যান্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। দূরে শিক্ষককতা করার কারণে সময় মতো স্ত্রী, পুত্র, মা-বাবার খোঁজ খবর রাখতে পারছেন না শিক্ষকরা। আত্মীয় স্বজন মারা গেলে দেখতে না পারার কষ্ট তো আছেই। দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা কমিটি, প্রতিষ্ঠান প্রধান অথবা স্থানীয় শিক্ষক দ্বারাও নির্যাতিত হচ্ছেন।
এছাড়া শত শত কিলোমিটার দূরে শিক্ষকতায় কম বেতনে বাড়ি আসা যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এসব কারণে অনেক শিক্ষক চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে এবং অনেক শিক্ষক চাকুরী ছেড়ে দিতে মনস্থ করেছেন। পূর্বে কমিটি নিয়োগের সময় এবং এনটিআরসি নিয়োগের সময়কালীন প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ ছিল, যা বর্তমানে নেই। তাই শিক্ষা ও শিক্ষক বাঁচাতে বাজেটবিহীন ইনডেক্সধারীদের জন্য আলাদা গনবিজ্ঞপ্তি জরুরী হয়ে পড়েছে। আবেদনে আরো উল্লেখ করেন, শিক্ষকরা অনেক সময় প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি পায়না। ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বুক ফাটা কান্নায় প্রকৃতি ভারি হয়ে উঠেছে।
এসব দাবীতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে বার বার মানববন্ধন, শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি এবং মন্ত্রণালয় এনটিআরসিতে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এর দাবিকে যৌক্তিক বললেও এ বিষয়ে কোন প্রদক্ষেপ না নেয়ায় শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ তাদের দাবী বাস্তবায়ন হচ্ছেনা।
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকরা তাদের নিজ জেলা ও উপজেলায় যেতে পারবেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা।
Leave a Reply