জহিরুল ইসলাম লাল ::
জগন্নাথপুর থানার সুনামধন্য অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমানের বদলি জনিত কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করার খবরে সর্বস্থরের মানুষের মনে যেন কষ্টের ছায়া পরিলক্ষিত হয়েছে।
আপন মানুষকে হারানোর বেদনায় যেমন অ-স্বস্থি আর কষ্টে মলিন থাকে আপনজন তেমনিই ওসির বদলি সংবাদে তাদের কষ্টের শেষ নেই।
এটা রূপকথার কোন গল্প নই, ওসি মিজানের স্বর্ণালী কর্মকান্ডের এমনই প্রতিদান হচ্ছে মানুষের ভালবাসা।
রূদয়ে আঘাত পেলেও তাকে বিভিন্ন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে সংবর্ধনা সহ সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার হিসেবে কৃতি সম্মাননা ক্রেষ্ট ।
গত ক’দিন ধরে যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট আদান-প্রদানের মাধ্যমে জনমনে চলছে নানা অনুভূতির কথা।
জনসাধারণের দেয়া বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে ফুটে উঠেছে ওসি মোঃ মিজানুর রহমানের যোগদানের প্রায় ২ বছরের নানা কর্মকান্ডের স্বর্ণালী চিত্র।
সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর থানায় যোগদানের পর থেকে ওসি মোঃ মিজানুর রহমান জগন্নাথপুর উপজেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রদক্ষেপ গ্রহন করেন। পুলিশ-জনতার সমন্নয়ে গড়ে তুলেন ভাতৃত্ববন্ধণ।
ওসি মিজানুর রহমান এ থানায় যোগদানের পূর্বে ব্যাপকভাবে ছিল মিথ্যা মামলার ছড়াছড়ি, মাদক বিক্রয় এবং সেবনে উৎপাত, বাল্য বিয়ে, চুরি বৃদ্ধি, জমি সংখ্যান্ত বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার,দালালদের উৎপাত, নিরীহ লোকজনকে নানাভাবে হয়রানি সহ ছিল নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভরপুর।
তাছাড়া নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিল সেবার নামে থানা পুলিশের হয়রানি।
তিনি উপজেলার সর্বস্থরের মানুষকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলার মাধ্যমে পথচলা শুরু করে শুরুর দিকেই বেশ সফলতা অর্জন করেন।
তার সুযোগ্য নেতৃত্ব, কর্মপরিকল্পনা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আইনশৃংখলার উন্নয়ন সহ সামাজিক ন্যায় বিচার ও নানাবিধ উন্নয়নে মানুষের মাঝে আস্থা অর্জন করে পুলিশ প্রশাসনের মূখ উজ্জ্বল করেন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসাবে পরিচিতি মোঃ মিজানুর রহমান।
তিনি জগন্নাথপুর থানায় কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের সাথে নিয়ে প্রথমে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে নিয়মিত মামলা কমিয়ে আনেন।
যাহাতে সেবা গ্রহিতারা হয়রানি না হন, সেজন্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে থানায় সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে রাখা হয়।
মামলা বা জিডি করতে কোন টাকা পয়সা লাগেনা, যদি কেউ কোন টাকা চেয়ে থাকেন সেখানে অভিযোগের জন্য থানার ওসির নাম্বারও দেয়া হয়।
বিশেষকরে মাদক বিক্রেতাদের কঠোর হস্তে দমন সহ অনেকাংশেই মাদক সেবনকারীদের দমন করা হয়।
তিনি থানা এলাকায় বাল্যবিয়ে রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন, তুলনামূলকভাবে এলাকায় চুরি রোধে কার্যকর ভুমিকা পালন, জমি সংখ্যান্ত বিরোধ নিরসন, আধিপত্য বিস্তার কায়েম বন্ধ সহ এলাকার চিন্হিত দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি সহ ঘুষ-দূর্ণীতি ও সকল প্রকার অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
বিশেষকরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলতা, বিচক্ষনতা, মানবিকতা, ন্যায় পরায়নতা, সাহসিকতা, স্পষ্টবাদীতা সহ নানা প্রশংসনীয় কর্মকান্ডে সৎ ও সাহসী অফিসার হিসেবে মানুষের মনে জায়গা করে নেন ওসি মোঃ মিজানুর রহমান।
তিনি সরকারের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযতভাবে পালনে প্রাণপন চেষ্টার মাধ্যমে থানাকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন।
তাছাড়া তিনি দলমত নির্বিশেষে কাজ করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর শান্তির দূত হিসাবে।
সর্ব মহলে পরিচিতি মানবিক পুলিশ অফিসার মিজানুর রহমান দাপ্তরিক কাজের বাইরেও সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকাল থেকে রাত অবদি পর্যন্ত ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
তিনি উপজেলার নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষগুলোর শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে অবিরাম কাজ করেছেন ।
তিনি থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের টাকার পিছনে না ছুটে দায়ীত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য সব সময় পরামর্শ দিতেন।
তিনি থানায় সেবা নিতে আসা কারো সাথে কখনও খারাপ আচরণ করতেন না বরং মানুষকে ভালবাসা দিয়ে সকল সমস্যার সমাধান করতে দেখা গেছে।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্টান সহ প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে দেশের কল্যানে সবাইকে এগিয়ে আসা সহ সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও এলাকার শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে কথা বলতেন।
তাছাড়া ওসি মিজানুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় জগন্নাথপুর পৌরসভার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনতে স্থাপন করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।
তিনি প্রায়ই নিজ খরছে অ-স্বচ্ছল পরিবারের মেয়েকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধে সহযোগিতা সহ জটিল ও কঠিন রোগীকে সহযোগিতা এবং গরীব ও অসহায় মানুষের সাহায্যর্থে এগিয়ে এসে বার বার পত্রিকার শিরোনামও হয়েছেন।
জগন্নাথপুর থেকে হটাৎ ওসির বদলি হওয়ায় অনেকেই কেঁদেছেন, অনেকেই তাঁর কর্মকান্ডের ভূয়শী প্রশংসা করছেন।
গত ক’দিন ধরে যেন ফেইসবুককেও হার মানিয়েছে ওসির প্রায় ২ বছরের নানা কর্মকান্ডে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জনবান্ধন ওসি মিজানুর রহমানের ন্যায় দেশের প্রতিটি থানায় যদি একজন করে মিজান থাকেন তাহলে দেশ এবং সমাজের চিত্র পাল্টে যাবে।
বিভিন্ন মহল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, জগন্নাথপুর থানায় কি মিজানুর রহমানের মত একজন নির্লোভ, নীতিবান, আদর্শ, দেশ প্রেমিক ও মানবিক ওসি আর ফিরে আসবেন?
উল্লেখ্য: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক (ইসি) অনুমোদনের প্রেক্রিতে সারাদেশে ৩৩৮ থানার ওসি বদলির তালিকায় জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
Leave a Reply