স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক লন্ডন প্রবাসীর জমি দখলের উদ্দেশ্যে ৬৭টি পাঁকা পিলার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার ২ নং পাটলী ইউনিয়নের পাটলী (মাঝপাড়া) গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী রেজওয়ান আহমদ দুলাল পাটলী মৌজার আর এস ৭৪ নং জে এল স্থিত একুনে মোট ৩ একর ৩ শতক জমি রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ক্রয় করে এলাকার লোকজনের জ্ঞাতসারে এবং পাশ্ববর্তী মালিকগনের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করে ৬৭ টি পাঁকা পিলার স্থাপন করে ভোগদখল করে আসছেন।
কিছুদিন পূর্বে উক্ত ভুমি একই গ্রামের মৃত মদরিছ মিয়া কোরেশীর পূত্র এলাকায় ভূমিখেকো হিসাবে পরিচিতি আকিকুর রহমান কোরেশী জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করলে প্রবাসী রেজওয়ান আহমদ দুলাল আদালতের আশ্রয় নেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুনামগঞ্জ এর বিজ্ঞ বিচারক কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে উক্ত জমির উপর ফৌজদারি কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারা জারী করেন।
যার বিবিধ মামলা নং ২৫৬/২৪ ইং।
আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে বিগত ০২/০৫ /২০২৪ ইং তারিখ সকাল ৭.৩০ মিনিটের সময় প্রতিপক্ষ মোঃ আকিকুর রহমান কোরেশীর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন অজ্ঞাতনামা একদল সন্ত্রাসী উক্ত জমির উপর থাকা ৬৭ টি পাঁকা সীমানা পিলার উপড়াইতে দেখে প্রবাসী রেজওয়ান আহমদ দুলালের ভাই ছায়েদ আলী বাঁধা দেন।
এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পিলার গুলো উঠিয়ে শ্রমিক ও গাড়ীযোগে অন্যত্র নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ।
এ বিষয়ে গ্রামের গর্ন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে জানাইলে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় লন্ডন প্রবাসী রেজওয়ান আহমদ দুলালের ভাই ছায়েদ আলী বাদী হয়ে মোঃ আকিকুর রহমান কোরেশীকে প্রধান আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই সাব্বির আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, তদন্তশেষে ঘটনার আলোকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ছায়েদ আলী বলেন, আমরা গ্রামের শান্তিপ্রিয় ও প্রবাসী পরিবার।
আমাদের খরিদা ও দখলীয় জমি গ্রামের ভূমিখেকো ও মামলাবাজ হিসাবে পরিচিত আকিক মিয়া জবর দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি আমাদের জমির ৬৭টি পাঁকা সীমানা পিলার আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করে চুরি করে নিয়েছেন।
তিনি আমাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
প্রতিপক্ষ মোঃ আকিকুর রহমান কোরেশীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা আমি এখনো পাইনি, পিলার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও অসত্য।
পাটলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া বলেন, তাদের মধ্যে মামলা মোকদ্দমা রয়েছে।
তবে শুনেছি আকিক মিয়ার লোকজন নাকি পিলার নিয়েছেন।
বিষয়টি সুরাহা করার জন্য চেষ্টা করা হলেও একটি পক্ষ না মানায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
Leave a Reply