স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের জগন্নাথপুর বাজারে অবস্থিত এক ব্যবসায়ীর খরিদা ও দখলীয় ভুমি আরেক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদারের কবল থেকে দীর্ঘদিন পর উক্ত দোকানঘরটি উদ্ধার করা হয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে দোকান ঘরটি উদ্ধার করে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছেন জগন্নাথপুর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মরহুম হাজি কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু।
এতে দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা দোকান ঘরটি ফেরত পেয়ে পরিবারের লোকজন সহ বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদার ১৭২ নং জে এল স্থিত ইকড়ছই মৌজার ৪১৮ নং দাগে মোট ৩ শতাংশ ভূমিসহ একটি দোকান ঘর বিগত ৩/১/২০১১ ইং সালের ১৫ নং দলিলমূলে দোস্তপুর গ্রামের আব্দুল মিয়া গংদের নিকট বিক্রি করে তিনি স্বত্ব ও দখলত্যাগী হন।
এরপর থেকে ওই দোকানঘরটি উপজেলার দোস্তপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার চেরাগ আলী ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন।
পরবর্তীতে চেরাগ আলী ব্যবসা ছেড়ে দিলে বাউধরন গ্রামের আকলু মিয়া বাউধরন ভ্যারাইটিজ স্টোর নামক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন ।
পরবর্তীতে ওই দোকান ঘরের মালিক আব্দুল মিয়া গংদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে জামাল মিয়া তালুকদার ভুষি মালের ব্যবসা করেন।
এরই মধ্যে দোকান ঘরের মালিক আব্দুল মিয়া ও আব্দুল হাই উক্ত ভুমি সহ দোকান ঘরটি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর নিকট বিক্রয় করেন। যার দলিল নং ১১৭৫ তারিখ-৩০/০৯/২০১৪ ইং।
এর আগে বাজারের টিএন্ড টি রোডে অবস্থিত বিক্রিত ৩ শতক ভূমির উপর নির্মিত দোকান ঘরটি ক্রয় করে মালিকানা বুঝে নেন ব্যবসায়ী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী ।
এ সময় দোকানঘর ভাড়া নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদারকে ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললে তিনি কিছুদিন পর অথ্যাৎ ৩০ শে চৈত্র ১৪২১ বাংলা সন উক্ত দোকানঘর ছেড়ে দিবেন বলে বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে ক্রেতা-বিক্রেতাকে আশ্বস্ত করেন।
তিনি সময় মতো ভাড়া পরিশোধ সহ পূর্বের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করবেন বলে সকলের সামনে প্রতিজ্ঞা করলে কুতুব উদ্দিন চৌধুরী তাকে সময় দেন।
ভুক্তভোগী ও বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুদিন যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া বিশ্বাস ভঙ্গ করে অন্যায় লাভের আশায় উক্ত দোকান ঘর ছেড়ে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জোরপূর্বক দোকানঘরটি দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেন।
এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈটকের আয়োজন করা হয়।
উক্ত দোকানঘরটি না ছাড়ায় ২০১৭ সালে তৎকালীন বাজার তদারক কমিটির সেক্রেটারি জাহির উদ্দিন ও সহ সেক্রেটারি জুনেদ আহমদ ভূঁইয়ার নিকট দোকান না ছাড়ার বিষয়টি জানালে তারা জামাল মিয়া তালুকদারকে ঘর ছেড়ে দেয়া ও দোকানের সমূদয় ভাড়া পরিশোধ করতে বলেন।
কিন্তু জামাল মিয়া তালুকদার তাদের কথা না শোনার কারণে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলুকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
এ নিয়ে ২০১৯ সালে অবৈধ দখলদারের নিকট থেকে দোকান ঘরটি উদ্ধারের জন্য পৌর মেয়র বরাবরে একটি আবেদন করলে পৌরসভার তৎকালীন প্যানেল মেয়র শফিকুল হক শফিক পর পর তিনটি নোটিশ প্রদান করলেও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া কোন কর্নপাত না করে কোন জবাব দেননি বা উপস্থিতও হননি।
পরবর্তীতে কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মরহুম হাজী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী উক্ত ভূমি খরিদাসূত্রে মালিক এবং উক্ত দোকান ঘরটি জামাল মিয়া তালুকদার ভাড়া নিয়ে জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন মর্মে প্রমানিত হলে পৌরসভা কর্তৃক দোকানঘর মালিক মরহুম হাজী কুতুব উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলুকে আইনি সহায়তার পরামর্শ দেন।
তাছাড়া সরকারের নিয়ম মেনে উক্ত ভূমির রেকর্ড সংশোধন সহ নামজারীমূলে হাল সন পর্যন্ত ক্রয়কৃত ভূমির পৌরকর ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন মেসার্স এ আলী টেডার্সের প্রোপাইটর আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু।
এ ব্যাপারে আবুল কালাম চৌধুরী বাবলু বলেন, আমার পিতার খরিদা ও দখলীয় দোকান ঘরটি প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে ভাড়া নিয়ে ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছিলো এলাকার ভূমিখেকো হিসাবে পরিচিত আওয়ামীলীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদার।
তিনি কোন বিচার শালিস মানেন না।
ইতোপূর্বে জগন্নাথপুর থানা ও পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানে সমঝোতার চেষ্টা করলেও তিনি আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করায় বিষয়টি সমাধান হয়নি।
অবশেষে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমার দোকানঘর আমি ফিরে পেয়েছি।
তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদারের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমাকে নানা ভাবে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে যে, আমার দোকানঘর তারা পূনরায় দখল করে নিবে।
জগন্নাথপুর বাজারে আমি কিভাবে ব্যবসা বানিজ্য করি তা দেখে দিবে বলেও হুমকি দিচ্ছে ।
তিনি সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করে বলেন, বর্তমানে তাদের হুমকি জনিত কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা জামাল মিয়া তালুকদার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমার দখলীয় দোকানঘর দিন-দুপুরে দখল করা হয়েছে।
আমি সিলেট শহরে আছি, আপনার সাথে পরে কথা বলবো।
Leave a Reply