স্টাফ রির্পোটার ::
সদ্য বদলী হওয়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ও এস আই সাব্বির আহসানের নামে অ-অনুমোদিত দু’একটা অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশে রাজনৈতিক, সামাজিক ও এলাকার নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুমান নির্ভর, উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও অসত্য সংবাদ প্রচার দেশ ও এলাকার মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় পুলিশের নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ও এস আই সাব্বির আহসানকে বদলি করা হলে গত মঙ্গলবার আমিনুল ইসলাম তাঁর নতুন কর্মস্থলে চলে যান।
কিন্তু বদলির সংবাদে ২/১ টা অনলাইন পোর্টালে ওসি আমিনুল ইসলাম ও এস আই সাব্বির আহসানের বিরুদ্ধে মনগড়া সংবাদ প্রচার করলে জনমনে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় ।
সংবাদে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা শুধুই হিংসাত্মক মনোভাব ও পুলিশের কাছ থেকে সুবিধা নিতে না পারার অংশ বলে মনে করেন এলাকার জনসাধারণ।
সংবাদে এ ধরনের ঘটনাগুলি এ প্রথম শুনলাম এটা অপ-প্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
অনেকেই বলেছেন, একটি পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি সহ গ্রেফতার করে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে কাকে হুমকি দেয়া হয়েছে তা অস্পষ্ট।
আরেকটি পোর্টাল বলছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ইসু করে অনেক নিরীহ মানুষকে থানায় ধরে নিতেন এবং বড় অংকের টাকা না দিলে মামলায় ঢুকিয়ে দিতেন ওসি আমিনুল ও এস আই সাব্বির।
প্রকৃতপক্ষে এ থানায় কোন শিক্ষার্থী বা কাউকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি বা এবিষয়ে থানায় কোন মামলাও হয়নি। তাছাড়া হয়রানি ও নির্যাতন কাকে করা হয়েছে তারও কোন নাম ঠিকানা সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।
তারা এও বলেন, সংবাদে উল্লেখ রয়েছে, বিভিন্ন অপকর্মের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সাংবাদিকদের থানায় ডেকে এনে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি সহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা থানায় একটাও ঘটেনি বলে মনে করেন তারা। যদি ঘটতো তাহলে এই অপকর্মের কথাগুলো কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে আগে প্রকাশ হয়েছিল তা আমাদোর জানা নেই।
বড় অংকের টাকার বিষয়টাও ভিত্তিহীন বলে এলাকার মানুষ মনে করেন।
সংবাদে একটি মামলার উদাহরণ দেয়া হয়েছে কিন্তু এই মামলার বিষয়ে এস আই সাব্বির আহসানের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সংবাদে তাকে জড়ানো হয়।
ওসি আমিনুল ও এস আই সাব্বিরের বদলিতে জনসাধারণের আনন্দ উল্লাস ও সস্থির নিঃশ্বাসের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সেটা পরিলক্ষিত হয়নি।
এসব বিভ্রান্তিকর সংবাদের পেচনে বা অন্তরালে এমন কি? লুকায়িত রহস্য রয়েছে তা জানতে চায় জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এস আই সাব্বির আহসান জগন্নাথপুর থানায় যোগদান করার পর থেকে সেকেন্ড অফিসার হিসাবে সততার সহিত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশেষকরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট ছিলেন সাহসী পুলিশ অফিসার সাব্বির আহসান ।
যার ফলে জগন্নাথপুর থানা এলাকায় গত ৫ আগষ্টের আগে বা পূর্বেও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এস আই সাব্বির আহসান একজন সৎ, সাহসী পুলিশ অফিসার হিসাবে এলাকায় পরিচিত।
তিনি বিভিন্ন অপহরণ মামলা সহ পারিবারিক নানা সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার সাক্ষর রেখে চলছেন ।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের দিক নির্দেশনায় ও সেকেন্ড অফিসার সাব্বির আহসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ প্রতিনিয়তই জগন্নাথপুর থানা এলাকায় চুরি ডাকাতি রোধ সহ জঙ্গি-মাদকমুক্ত, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও দালালমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
মানবিক পুলিশ অফিসার হিসাবে পরিচিত এস আই সাব্বির আহসান এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তাদের আইনের সুফলগুলো অবহিত করেন ।
ফলে তিনি এলাকার সর্বস্থরের মানুষের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়ে উঠেন।
বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষকদের করণীয় সম্পর্কেও উৎসাহ প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার বিদায়ী ওসি আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমার নামে মিথ্যা অপ-প্রচার করা হচ্ছে।
আমি কি করেছি জগন্নাথপুরের মানুষই ভাল জানেন।
এস আই সাব্বির আহসান বলেন, আমার কর্তব্য কাজে আমি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি।
ভাল কাজ করলে কিছু স্বার্থানেষী পেচনে কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক।
পুলিশ সুপার মহোদয় ও অফিসার ইর্নচাজ (ওসি) স্যারের দিকনির্দেশনায় সততার সাথে আমি দায়ীত্ব পালন করে যাচ্ছি।
আমার বিরুদ্ধে এসব সৃজিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
Leave a Reply