স্টাফ রির্পোটার ::
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত মহা-সচিব মীর আবদুস সবুর আসুদ বলেছেন, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের পক্ষে ছিলো। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে রংপুরে মামলা হয়েছে।
আমাদের নেতা-কর্মীরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়ার কারনে রংপুর সহ সারাদেশে হয়রানি ও গ্রেফতার হয়ে অনেকেই হাজতবাস করেছেন।
তিনি বলেন, ১লা জুলাই ছাত্ররা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু করলে, আমাদের পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ৩ জুলাই সংসদে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর সামনে ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে বক্তৃতা করেছেন। জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তৃতায় গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছিলেন, ছাত্রদের এই আন্দোলন যৌক্তিক। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংবিধান পরিপন্থি।
বৈষম্যের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
যা দেশবাসী উপলব্দি করেছেন।
৬ জুলাই গাজীপুরে জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছিলেন, চাকরিতে কোটা পদ্ধতি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা পরিপন্থি। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি হচ্ছে বৈষম্য। আমাদের শহীদ মিনার হচ্ছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেয়ার প্রতিক।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের তখন ছাত্রদের শহীদ মিনারে গিয়ে শপথ নিতে বলেছিলেন।
যখন ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ককে আটক করা হলো, জাতীয় পার্টি তাদের মুক্তি দাবি করেছিলো। ছাত্র আন্দোলনে যখন গুলি চালানো হলো, জাতীয় পার্টি এর প্রতিবাদ করেছে।
প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছিলাম আমরা।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে সবার আগে রংপুরে গিয়ে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন আমাদের নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
শহীদ আবু সাঈদের শোকার্ত বাবা-মাকে সান্তনা দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, একটি চক্র ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে জাতীয় পার্টিকে ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষের দল হিসেবে চিহ্নিত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
যে ছাত্রদের আন্দোলনে আমরা সমর্থন দিয়েছি, আমাদের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়ে জেল খেটেছে।
সেই আন্দোলনের হত্যা মামলায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদেরসহ জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের আসামি করা হচ্ছে।
এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের সহ সকল নেতা-কর্মীদের নামে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
জাতীয় পার্টি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।
আজ দুপরে কাকরাইলে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের সহ জাতীয় পার্টি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন মীর আবদুস সবুর আসুদ।
পরে একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হামিদ ভাসানী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হেলাল, প্রচার সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, যুগ্ম সাংগঠনিক মোঃ হেলাল উদ্দিন, এম এ সোবহান, যুবনেতা দ্বীন ইসলাম শেখ, ইউসুফ লস্কর, সাব্বির আহমদ, ফারুক আহমেদ, আয়নাল হোসেন, ডালিম মিয়া, শেখ সারওয়ার, লায়ন ইমরানুল হক, সামসেদ তাবরেজ, মোহাম্মদ উল্ল্যাহ, ছাত্রনেতা- নাজমুল হাসান রেজা, মোঃ ইউসুফ, ইঞ্জিনিয়ার জুবায়ের আহমেদ, মোঃ শিমূল শিকদার, হিমেল আহমেদ , মটর শ্রমিক নেতা- মেহেদী হাসান শিপন, আব্দুর রহিম, মোঃ রফিক, মেহেদী হাসান রুবেল, মুজাহিদ আলম, গোলাম মোস্তফা, লুৎফর রহমান, রিয়াজ আহমেদ, শেখ শরীফ, খলিলুর রহমান, শহর আলী, ইউসুফ আলী, আবুল কালাম, মোস্তফা ইসলাম, দুলাল মিয়া, হেলাল মন্ডল, মাসুদ, মোঃ রিপন, মাহবুবুর রহমান, ফজলুল হক চান, মোঃ হানিফ, মোঃ শহীদ, এনায়েত হাওলাদার খোকন, সোহেল রানা, মোঃ তুহিন, মোঃ বাবুল হোসেন, মোঃ নাজিম, মোঃ আশিক প্রমুখ।
Leave a Reply