জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে গত কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে নিত্যপন্য সবজির দাম।
বাজারে প্রায় সব সবজির দামই ১০০ টাকার ওপরে থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
পাশাপাশি মুরগি ও মাছের দামও চড়া থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে কোন স্বস্তি নেই ।
বিক্রেতারা বলছেন, শুধু জগন্নাথপুরে নয়, উৎপাদন এলাকায়ও সবজির দাম চড়া।
জগন্নাথপুরের সর্বত্রই সবজির দাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বাজার তদারকির জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানালেও কোন তদারকি করতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্টদের।
জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়।
এর মধ্যে রয়েছে, শিম, বরবটি, করলা, ঝিঙা, চিচিঙা ও ধুন্দল, পটল,মুলা ও মুকি। এসব সবজির দর ১০০ টাকার নিচে কোনোভাবেই নামছে না।
তবে ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে আলু ও পেপে।
শীতের শুরুতে বাজারে কিছু আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও সবজি সাধারণ মানুষের ক্ষয়-ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে।
বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, টমেটো ২৮০ টাকা, ধনিয়াপাতা ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের চেয়ে সবজির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০থেকে ৩০ টাকা।
সবজির দাম বাড়লেও গত সপ্তাহে ডিম ও পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচামরিচের দামও বেড়েছে।
বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। জগন্নাথপুর বাজারের পাইকারি কাঁচামাল বিক্রেতা, তাজ উল্লা সবজি ভান্ডারের মালিক সেলন ভান্ডারী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলেরও বেশ কিছু এলাকায় বন্যা হচ্ছে।
ফলে সবজি ক্ষেতের বীজতলার সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
উৎপাদন এলাকায় কৃষকরা পর্যাপ্ত সবজি উৎপাদন করতে না পারায় তুলনামূলকভাবে দাম বেশি নিচ্ছেন তারা। ফলে আমরাও একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন দু’সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসলেই দাম কমে যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, বর্তমানে সবজির প্রচুর দাম থাকলেও সবজির বাজার তদারকির জন্য দেখার যেন কেউ নেই।
সবজি ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে তাদের খেয়ালখুশি মতো সবজি বিক্রি করছেন।
তারা জরুরী ভিত্তিতে বাজার তদারকি করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।
Leave a Reply