স্টাফ রির্পোটার : :
সুনামগঞ্জ-আউশকান্দি-ঢাকা মহাসড়কের জগন্নাথপুর স্টিল ব্রীজ নামক স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না সওজ ও জনপথ কর্তৃপক্ষের।
একই স্থানে বার বার দূর্ঘটনা ঘটলেও তাদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
জোড়াতালির এই স্টিল ব্রিজটি বর্তমানে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে।
এতে যান ও জন দূর্ভোগের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে ।
সচেতন মহল বলছেন, এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরবর্তীতে ঘটতে পারে আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে সুনামগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে ইছগাঁও গ্রামের পাশে নলজুর নদীর উপর স্টিলের ব্রীজের পাঠাতন ভেঙ্গে নিচে চলে যায়। ফলে প্রত্যান্ত অঞ্চলের সংযোগ সড়কগুলিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সড়কগুলোতে চলাচলকারী লক্ষাধিক জনসাধারন।
জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ সেতু হওয়ার পর থেকে এই সড়কে দিন-রাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। হঠাৎ ব্রীজে গাড়ী আটকে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন হাজারো জনসাধারন।
এই সুযোগে নদীতে থাকা নৌকা দিয়ে লোক প্রতি ১০টাকা করে এলাকার কিছু মাঝি যাত্রী পারাপার করেছেন।
তবে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে নৌকা পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় বইছে।
তবে জোড়াতালি দিয়ে আবারও সচল হওয়া স্টীল ব্রিজ দিয়ে গাড়ী চলাচল করলেও যাত্রী ও এলাকার জনসাধারনের মধ্যে আতংক এখনো কাটেনি।
স্থানীয়রা জানান, এই ব্রীজে প্রত্যেক দিন নানাভাবে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
তবে যাত্রীরা দুর্ভোগ আর দূর্ঘটনার শিকার হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
দীর্ঘদিন ধরে এ ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ন থাকার পরও এই ব্রিজের দিকে তাদের কোন নজর নেই।
ঝুঁকিপূর্ন এ সড়ক দিয়ে দিন-রাত হালকা সহ ভারী যানবাহন চলাচল করছে।
বিশেষকরে রট, সিমেন্ট, ইট, বালি, মাঠি ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র যেমন- চাল, চিনি,পিয়াজ সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এ ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে আসছে।
নাগরিক সমাজ বলছে, এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হলে পরবর্তীতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এর আগেও এই ব্রিজে দুই জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এগুলো কি দেখার কেউ নেই।
কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই বার বার একই স্থানে দূর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তুলেন তারা।
ব্যাপারে এ সড়কে চলাচলকারী ড্রাইভার মিলাদ মিয়া জানান, প্রত্যেকদিন এভাবে গাড়ী আটকে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে কেউই নজর দিচ্ছেন না। গত দুই বছর আগে দুইজন লোক মারা গেছে।
আর কত প্রাণ গেলে এ ব্রিজ তাদের নজরে আসবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে সড়ক ও সেতু বিভাগের লোকজন কাজ সম্পন্ন করেছে।
আশা করছি এখন গাড়ী চলাচল করতে পারবে।
এই ব্রীজের পাশে আরেক সেতুর ডিজাইন দিয়েছিলাম, হেড অফিস থেকে ডিজাইনটা এখনো দেয় নাই।
আশা করছি আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পেয়ে যাব।
এটা পেলে আমরা টেন্ডার আহবান করবো। নতুন সেতু হলে আশা করি আগামীতে আর সমস্যা থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২২ আগস্টে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক এ স্টীলের ব্রীজ ভেঙে নদীতে ডুবে যায়।
ওই ঘটনায় ট্রাকচালক ওমর ফারুক ও চালকের সহকারী জাকির হোসেন নিহত হন। এরপর থেকে সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা রোডে সপ্তাহখানেক সরাসরি যানচলাচল বন্ধ থাকার পর ক্ষতিগ্রস্ত এ ব্রিজটি জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল।
Leave a Reply