স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি এ অঞ্চলের একজন বর্ষীয়ান ও কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ছিলেন।
২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওইদিন ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলের মানুষ একজন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক কে হারিয়ে শোকে কাতর ছিলেন।
অত্র অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন সৎ সাহসী, নির্লোভ- নিরহংকারী ও সাদামনের মানুষ।
তিনি বেঁচে নেই এটা সত্য তবে তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে মানুষের মাঝে চীর স্মরণীয় হয়ে আছেন।
সাবেক সাংসদ মরহুম জননেতা আব্দুল মজিদ মাস্টারের আজ রোববার (২০ এপ্রিল) ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী।
এই দিনে প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন তাঁর নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ ৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) এর জনসাধারণ সহ সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘটনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও জাতীয় পার্টি সহ সহযোগী সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক পিপি ও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মজিদ মাস্টারের সুযোগ্য পুত্র জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল নির্বাচনী এলাকা (ছাতক-দোয়ারাবাজার) সহ সুনামগঞ্জ জেলাবাসী এবং জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের কাছে তাঁর মরহুম পিতার মাগফেরাত কামনায় দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে তিনি ওই আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৮০ সালে শিক্ষকতার পেশায় মনোনিবেশ করে টানা ১০ বছর দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি অনুন্নত ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার এক প্রাণ পুরুষ।
পরে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে দোয়ারবাজার উপজেলার পুরো রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে উপজেলায় প্রথম বিদ্যুতায়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়।
তাঁর আমলে দোয়ারাবাজার কলেজ বর্তমানে দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজ, দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা সদরে প্রথম বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ তার হাত ধরেই ওইসব প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প আলোর মুখ দেখে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি ছিলেন জেলাবাসীর কাছে স্বজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৯ সালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি আইন পেশায় জড়িত হন। তাঁর পেশায় তিনি এখনও সফল ব্যক্তি। মূলত আইন পেশা থেকে তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এক কর্মদক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সুনামগঞ্জে সব মহলে সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে ৫ বছর তিনি সুনামগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘদিন তিনি জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলাজুড়ে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করেন।
২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া তিনি জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
Leave a Reply