জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আবেদনকারীরা করেছেন নানা অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন ডিলার প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অফিস মনোনীত কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তার যোগসাজসে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিনের পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৬ অক্টোবর উপজেলা খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে তারাহুরো করে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এতে ডিলার নিয়োগ কমিটির ৭ সদস্যের মধ্যে ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিন এর বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব ও গোপনীয়তা রক্ষাসহ অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার গুঞ্জনও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী অনেকেই জানিয়েছেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছি, কিন্তু বিনা কারণেই আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানে সুস্পষ্টভাবে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর মোট ৬৯ জন ব্যবসায়ী ডিলার প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন কারনে ৩৫ জনের আবেদন বাতিল বলে গন্য করেন ডিলার নিয়োগ কমিটি। ৩১ টি আবেদনের বিপরীতে লটারীর মাধ্যমে ১১জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। কেউনবাড়ী বাজার ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি আবেদন তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে বাতিল গন্য হওয়ায় কাওছার আহমদ রুবেল ডিলার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। কলকলিয়া ইউনিয়নের খাশিলায় ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে বাতিল হওয়ার পর আবু সুফিয়ান ডিলার নিয়োগ প্রাপ্ত হন। বড়ফেছি বাজারে ৩টি আবেদনের মধ্যে ২টি আবেদন তদন্তে বাতিল হলে মোঃ চান মিয়া ডিলার হিসাবে নিয়োগ পান। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল বাজারে একটি মাত্র আবেদন হওয়ার কারনে মোঃ সুহেল মিয়াকে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে মর্মে পাটলী ইউনিয়নের এনামুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর ও পাইলগাঁ ইউনিয়নের সাতা পয়েন্ট এর মোঃ সানুর মিয়া এবং মোঃ আনোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক পৃথক ভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে ডিলার নিয়োগ ঘোষণার পর খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
তার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
ফেইসবুকে লিখেন নানা অনিয়ম ও অভিযোগের ফিরিস্তি।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ সাহাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। যারা আবেদন করে ডিলার নিয়োগে উপযুক্ত হয়নাই তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এসময় তিনি প্রশ্নের মূখে তথ্য উপস্থাপনে চল-চাতুরীর আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
উপজেলা খাদ্যবাদ্ধব ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বরকত উল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply