1. : admin :
  2. sdfadas@email.em : :
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে উপজেলা জামায়াতের বাছাইকৃত কর্মী ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স- কয়ছর আহমেদ এমপি সুনামগঞ্জ ৩ আসনে ধানের শীষের বিশাল জয় : আবেগাপ্লুত ‘বিজয়ী কয়ছর” জগন্নাথপুরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় দু’পক্ষই অনড় : একে অপরকে দায়ী রাত পোহালেই ভোট : কে হচ্ছেন ভি আই পি খ্যাত সুনামগঞ্জ ৩ আসনের কান্ডারী সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার রতন শেখ নিয়ামতপুরে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে গো-খাদ্য বিতরণ জগন্নাথপুরে ইক্বরা ইসলামী সাহিত্য পাঠাগারের উদ্যোগে প্রবাসীদের সংবর্ধনা প্রদান রাজবাড়ীতে পদ্মায় কুমির : আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ সুনামগঞ্জে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি : যুবক আটক

জগন্নাথপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে এবতেদায়ী প্রধানকে মাদ্রাসার সহ-সুপার নিয়োগ : সুপারের অভিযোগ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১৩৩৮ দেখা হয়েছে

 

জহিরুল ইসলাম লাল ::

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের রসুলপুর জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহ সুপার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তিনিই নন এই প্রতিষ্ঠানে আরো দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে দিন দিন চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে সহ-সুপার তাজুল ইসলাম ও অপর দুইজন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্টানটির সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ নাছির উদ্দিন।

জানা গেছে, রসুলপুর জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সরকারি বিধি অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের ১১ জানুয়ারি সুপার পদে নিয়োগ পান মোঃ নাছির উদ্দিন।
তারই হাত ধরে ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্টানটি ২০০১ সালে অনুমতি লাভ করে এবং এমপিও ভূক্তির সকল কার্যক্রম শুরু হয়।
কিন্তু আলোর পথ দেখার আগেই সুপারের বিরুদ্ধে শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র।
অবশেষে তাজুল ইসলামের প্ররোচনায় কমিটির কতিপয় লোকজন ২০১৫ সালের ৮ ই অক্টোবর সৃজিত পদত্যাগপত্র নিজেরাই তৈরি করে এ পদ থেকে সুপার নাছির উদ্দিনকে জোড়পূর্বক অব্যাহতি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেন।
এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভূক্ত হয় ।
এমপিও ভূক্ত হওয়ার পর শুরু হয় নানা কৌশলে চাকুরী বাণিজ্য।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী আনোয়ার হোসেনের যোগসাজশে ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় লোকজন কাগজ কলমে ভূয়া নিয়োগ বিঙপ্তি ও ইন্টারভিউ বোর্ডের নামে সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে সহ সুপার হিসাবে তাজুল ইসলাম ও ২ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়।
নিয়োগপত্রে সহ-সুপার হিসাবে তাজুল ইসলামকে বিগত ২০০৩ সালের ১ লা জুলাই, সহকারী মৌলভী পদে মোঃ আব্দুল মান্নানকে ২০০০ সালের ১ লা এপ্রিল ও সহকারী শিক্ষক পদে একই তারিখে আ ব ম, আমিনুল হককে নিয়োগ দেখানো হয়।
যেখানে ছাড়পত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির সুপার নাছির উদ্দিন ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন এবং এবতেদায়ী প্রধান হিসাবে তাজুল ইসলামও কর্মরত।
যার প্রমান বেতন বিলি, হাজিরা খাতা সহ বিভিন্ন অফিসিয়াল দপ্তরে বিদ্যমান রয়েছে। তাহলে ২০০৩ সালে সহ-সুপার পদে তাজুল ইসলাম কিভাবে কর্মরত থাকেন।
তাহলে কি? সুপার নাছির উদ্দিনকে বিদায় করার প্রায় ১২ বছর পূর্বেই, শূন্য পদ দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সহ-সুপার তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেখানো হয়েছে।
অথচ ১৯৯৮ সালের ১২ ডিসেম্বর এবতেদায়ী প্রধান হিসেবে প্রতিষ্টানে তাজুল ইসলাম ও অপর দুই শিক্ষককে নিজ সাক্ষরে চাকুরী দিয়েছিলেন সুপার মোঃ নাছির উদ্দিন।
বিভিন্ন সূত্রমতে জানা গেছে, কমিটির কিছু অসাধু ব্যাক্তিদের সহযোগিতায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সু-কৌশলে বিধি বর্হিভুতভাবে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব হাতিয়ে নেন বিতর্কিত সহ-সুপার মোঃ তাজুল ইসলাম।
এরই মধ্যে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভূক্ত হয়।
যদিও নিয়ম মোতাবেক এবং বিধি অনুসারে ইবতেদায়ী প্রধান তাজুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সুপার হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
তবে ২০০৩ সাল থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সহ সুপার হিসাবে সুযোগ-সুবিধা ও ২০১৯ সাল থেকে সরকারী বেতনভাতা হাতিয়ে নেওয়া তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে, তিনি অদৃশ্য খুঁটির জুড়ে ভারপ্রাপ্ত সুপারের চেয়ারে রয়েছেন বহাল তবিয়তে এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে সুপার হিসাবে মোঃ নাছির উদ্দিনের নাম অনলাইনে এখনও বিদ্যমান থাকতে দেখা যায়।
এছাড়া অপর শিক্ষক আব্দুল মান্নান ও আমিনুল হকের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে তাদেরকেও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ।
আর এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম মোখলেছুর রহমান ও কর্মচারী আনোয়ার হোসেন ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপি ও ভূক্তি হলে পূর্বোক্ত সমস্ত প্রমানাদি গায়েব করে নতুনভাবে ভূয়া নিয়োগ বিঙপ্তি ও ইন্টারভিউ বোর্ড ও সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে শূন্য পদে সহ-সুপার ও আরো ২ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেখানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী সুপার নাছির উদ্দিন দাবি করেন।
প্রকৃতপক্ষে এই তিনজন শিক্ষক উল্লেখিত তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হননি বলেও সরেজমিন পরিদর্শন ও লিখিত অভিযোগে উঠে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মাদ্রাসা কমিটির সদস্য জানান, ইন্টারভিউ বোর্ড গঠন করে ভূয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে সুপার নাছির উদ্দিন সহ নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যদের সীল সাক্ষর জালিয়াতি করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে তাজুল ইসলামকে সহ সুপার হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সঠিক তদন্ত হলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলেও মনে করেন এলাকাবাসী ।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে এম মোকলেছুর রহমান জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিভিন্ন দপ্তরে আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেছি । এরই ভিত্তিতে রির্পোট তৈরি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সুপার (ভারপ্রাপ্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, আমার উপর দাখিলী অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মাদ্রাসার বিষয়টা গ্রামের তাই আমি কিছু বলতে পারব না।
নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা ঠালবাহানা শুরু করেন।
এসময় তিনি কাগজপত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও আরেকটি সেট তার বাড়িতে রয়েছে বলে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন নাছির উদ্দিন বার বার ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করছেন।

কমিটির সভাপতি হাজী আনোয়ার মিয়া বলেন, বহু আগের বিষয় এত কিছু আমি বলতে পারবো না। তিনি মাদ্রাসার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন এটা সত্য। তবে কেন তাঁকে হঠাৎ করে বিদায় করা হলো সবকিছু আমার মনে নেই।

এদিকে সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, বেতন ভাতা ও চাকুরীতে পূর্ন বহালের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত আবেদন করেছি।
কোন কারণ ছাড়াই আমাকে বিনা নোটিশে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদ্রাসা থেকে সড়িয়ে অভিযুক্তদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
নিরুপায় হয়ে আমি জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ ও জি, ডি এন্ট্রি করেছি। যার নং- (১৪৭৫) ।
বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। মাদ্রাসার নিজস্ব তহবিলের লাখ লাখ টাকা অপচয় করে তদন্ত রির্পোট ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আমি শিক্ষাবান্ধব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার কামনা করছি।
জ-ডাক/২০২৩ (১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর দেখুন
All rights reserved ©2023 jagannathpurerdak
Design and developed By: Syl Service BD