স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভূমি সংখ্যান্ত বিরোধের জের ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক সংখ্যালঘু পরিবারকে রাস্তায় চলাচলে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুধু তাই নয়, বিবাদীদের হুমকি জনিত কারণে ওই নিরিহ পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এবিষয়ে জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার ৩ নং মীরপুর ইউনিয়নের লহরী (পূর্ব পাড়া) গ্রামের মৃত বন বিহারী রায়ের ছেলে বিকেশ রায় গংদের পৈতৃক সম্পত্তি প্রতিবেশি একই গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে রাজেল মিয়া কৌশলে দখলে নিতে নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে।
এমনকি তাদের গ্রামছাড়া করতে রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ৫ মার্চ সকালে বিকেশ রায়ের বাড়িতে ট্রাক যোগে নির্মান কাজের মালামাল রাস্তা দিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে প্রতিপক্ষ রাজেল মিয়া, সাহেদ মিয়া, জাকারিয়া, কিবরিয়া তাতে বাধাঁ দেয়।
এ সময় ট্রাক চালক রিপন মিয়ার সাথে অশোভন আচরণ করে গাড়ির চাবি তারা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গাড়ি সহ মালামাল আটক করে।
পরে বিকেশ রায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে উল্লেখিত বিবাদীরা হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দাওয়া করলে তিনি পালিয়ে রক্ষা পান।
এ নিয়ে বিকেশ রায় গ্রাম্য পঞ্চায়েতের শরণাপন্ন হলে পঞ্চায়েতবর্গ বিবাদী রাজেল মিয়া গংদের সাথে যোগাযোগ করে বিচার সালিশের আয়োজন করেন।
উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এলাকার প্রবীণ মুরব্বি মোঃ আব্দুর রূপ।
সভায় উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে বিরোধ নিষ্পত্তির স্বার্থে সার্ভেয়ার দ্বারা ভূমি মাপঝোঁক করিয়া খুঁটি স্থাপন করেন।
কিন্তু বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষ রাজেল মিয়া গংরা জোরপূর্বক উক্ত খুঁটি উপড়ে ফেলে দেন এবং সংখ্যালঘু পরিবারকে রাস্তাঘাটে চলাচলে বাঁধা প্রদান করেন।
এক পর্যায়ে নিরিহ এই পরিবার গৃহবন্দী হয়ে পড়লে পঞ্চায়েতবর্গ তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
অবশেষে তিনি জগন্নাথপুর থানায় রাজেল মিয়া সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শহিদ বলেন, ভূমি সংখ্যান্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।
কেউ আইন শৃংখলার বিঘ্ন ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৈঠকের সভাপতি মোঃ আব্দুর রূপ সহ সালিসি মোঃ বারিক মিয়া ও মোঃ ঝুনু মিয়া বলেন, বিকেশ রায়ের আংশিক ভুমি প্রতিপক্ষ দখলে নিয়েছিল এটা সত্য, তবে বিচার সালিসের মাধ্যমে উভয়ের সম্মতিক্রমে সার্ভেয়ার দ্বারা মাপঝোঁক করে উক্ত ভূমি চিন্হিত করে দেয়া হয়েছে।
এখন যদি কেউ না মানেন তাহলে আমাদের কি করার আছে।
ভুক্তভোগী বিকেশ রায় বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু পরিবারের নিরিহ লোক।
রাজেল মিয়া গংরা গ্রামের একই পরিবারভূক্ত উশৃংখল প্রকৃতির প্রভাবশালী। তারা পঞ্চায়েতবর্গ ও গ্রামের কাউকে তোয়াক্কা করে না। আমার বাড়ির কিছু ভূমি তারা কৌশলে দখল করে নিয়েছে।
বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের গ্রামছাড়া করতে নানান ভাবে হুমকি-ধামকি সহ রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ।
তাদের হুমকি জনিত কারণে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে প্রতিপক্ষ রাজেল মিয়ার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply