জহিরুল ইসলাম লাল ::
জগন্নাথপুর পৌর শহরের আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে দায়েরকৃত দুটি অভিযোগেরই সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
কমিটির পৃথক তদন্তে উঠে আসে তার নানা অনিয়মের কথা।
এদিকে তদন্তের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদনসহ অনুলিপি প্রেরণ করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সেলিম রেজার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য রুবেল মিয়া ও এম নুরে আলম সাক্ষরিত একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়।
দাখিলকৃত অভিযোগটি অদৃশ্য কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে যায়।
পরবর্তীতে শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি সহ তাদের সাথে অশালীন ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ২০২২ সালের (১৫ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ২৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এমন অভিযোগের পরও তার টনক নড়েনি।দায়েরকৃত অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন এবং ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দেন। তার হুমকি থেকে রক্ষা পাননি নিরিহ অভিভাবকরাও। অভিযোগ প্রত্যাহারে তাদের নানান চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এক পর্যায়ে তার এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিভাবক সহ এলাকার নানা শেণী-পেশার মানুষ ফুঁসে উঠেন।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্টু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং তার অপসারনের দাবীতে স্থানীয় জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা তার অনৈতিক নানা কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করে বিদ্যালয় থেকে তাকে অনতিবিলম্বে অপসারণ সহ তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে পৃথক অভিযোগে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ২ টি তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম।
তিনি গভীর পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করান।
রুবেল মিয়া ও এম নুরে আলম সাক্ষরিত অবৈধ নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, জাল সাক্ষরের মাধ্যমে জালিয়াতি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম মোকলেছুর রহমানকে আহবায়ক ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার বিলাল হোসেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাপ্রুচাই মার্মাকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অপর অভিযোগটিও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আহবায়ক ও উপজেলা রিসোরস সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. হারুন রশীদ চৌধুরী, উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা ঝরনা বেগমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
উক্ত কমিটিগুলো পৃথক পৃথক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে রুবেল মিয়া গং কর্তৃক শিক্ষক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পুরোপুরি সত্যতা পাওয়া যায়, বলিয়া প্রতিবেদনে উঠে আসে এবং বিদ্যালয়ের ২৪ জন শিক্ষার্থী কর্তৃক আনিত অভিযোগেরও সত্যতা খুঁজে পান তদন্ত কমিটি এবং ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণের এমন চিত্রও তদন্তে সত্যতা প্রকাশ পায়।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম
উভয় অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনাক্রমে গত ১২ মার্চ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেন।
উল্লেখ্য :: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড রোডে ২০০১ ইং সনে নিজস্ব ভুমির উপর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মরহুম শফিকুল আহমদ ভুইয়া।
পিতা মরহুম আব্দুল খালিকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নাম করণ করা হয়েছিল আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়।
উক্ত বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে অব্যাহতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাসকে নিয়োগ দেয়া হয়।
২০২০ সালে শফিকুল আহমদ ভূইয়া মৃত্যু বরণ করলে এ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হয়।
২০২২ সালের জানুয়ারীতে প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শফিকুল আহমদ ভূইয়ার ছোট ভাই রফিকুল আহমদ ভূইয়াকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়।
তিনি নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা না করে সাবেক প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত সেলিম রেজাকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে সম্পুর্ণ বে-আইনিভাবে, রেজুলেশন বহি পরিবর্তন ও সাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ উঠে।
এতে ক্ষুব্ধ হন সাবেক ও বর্তমান কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজাকে অর্থ আত্মসাৎ ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগে এই বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল।
Leave a Reply