জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামি সৈয়দ হুসবান আহমদ (৩৫)কে ফেনী জেলা সদর থেকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি উপজেলার সৈয়দপুর (ঈশানকোনা) গ্রামের মৃত এলাইছ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, সৈয়দপুর ঈশানকোনা এলাকায় গত ২৮ এপ্রিল সকালে পূর্বশত্রুতার জেরধরে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের বন্দুকের গুলিতে একই গ্রামের সৈয়দ আনহার মিয়ার ছেলে সৈয়দ জামাল (৪৫), নিহত হয়।
এর পর গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা বিভিন্ন জেলায় ঘা-ঢাকা দেয়।
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে সহকারী পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) শুভাশিস ধর ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও নির্দেশে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি চৌকশ টিম মৌলভীবাজার, ঢাকা, ফেনী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার মূলহোতা এবং মামলার এজাহারনামীয় ০২নং আসামি সৈয়দ হুসবান আহমদকে গত শনিবার (১৩ মে) ফেনী জেলা সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনায় সময় ব্যবহৃত ১টি একনালা বন্দুক ও ৪টি কার্তুজ উদ্ধার পূর্বক সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকামূলে তা জব্দ করা হয় এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে বলেও এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানার সৈয়দপুর ঈশানকোনা এলাকায় গত ২৮-০৪-২০২৩ খ্রি. রাত ০৯:১৫ ঘটিকার পূর্বশত্রুতার জেরধরে দুই পক্ষের তর্কবিতর্কের একপর্যায় সৈয়দ হুসবান আহমদ তার বসতঘর হতে বন্দুক নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে সৈয়দ জামাল (৪৫), পিতা-সৈয়দ আনহার,সাং-ঈশানকোনা, থানা-জগন্নাথপুর, জেলা-সুনামগঞ্জ নামে এক ব্যাক্তি নিহত হয় এবং বেশ কয়েকজন জখম প্রাপ্ত হন।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই সৈয়দ হোসাইন গত ০১-০৫-২০২৩ খ্রি. জগন্নাথপুর থানায় হাজির হয়ে আসামি ১। সৈয়দ আলমগীর (৪৭), ২। সৈয়দ হুসবান আহমদ (৩৫), উভয় পিতা-মৃত সৈয়দ এলাইছ মিয়া, ৩। মোঃ আবুল হাসান (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল হক, ৪। সৈয়দ মাহফুজ আহমদ (২৫), পিতা-জিতু মিয়া, ৫। সৈয়দ ইসহাক আহমদ (২০), পিতা-সৈয়দ আলমগীর, সর্বসাং-সৈয়দপুর ঈশানকোনা, থানা-জগন্নাথপুর, জেলা-সুনামগঞ্জসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে জগন্নাথপুর থানায় হত্যাসহ অন্যান্য ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ।
Leave a Reply