জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সুষ্ঠ পরিকল্পনার অভাবে সরকারের বরাদ্দকৃত ২৫ লক্ষ টাকার বেইলি ব্রীজ পানির নীচে থাকায় যানবাহন চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলেও বিঘ্নতা ঘটেছে।
জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর সদরের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন নলজুর নদীর উপর থাকা পুরাতন ব্রীজ ভেঙে নতুন দৃষ্টি নন্দন ব্রীজ নির্মান করতে প্রায় ২ মাস পূর্বে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পূরাতন ব্রীজটি ভাঙার কাজ শুরু করে।
অস্থায়ী বিকল্প সেতু হিসাবে চলাচলের জন্য পাশ্ববর্তী হেলিপ্যাড রোড থেকে সি এ মার্কেটের সাথে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে একটি পূরাতন বেইলি ব্রিজের সংযোগ স্থাপন করা হয়।
শুরু থেকেই উক্ত বেইলি ব্রীজ অনেকটা নীচু বর্ষায় পানি উঠার আশংকা রয়েছে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসী উত্তাপন করে আসলেও এর প্রতি কোন কর্ণপাত না করে তারাহুরো করে ব্রীজের কাজ সমাপ্ত করা হয়।
এলাকাবাসী বলেন, অন্য যায়গা থেকে নিয়ে আসা স্টীলের পুরাতন আসবাবপত্র দিয়ে বেইলি ব্রীজ তৈরী করতে শুনেছি খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা।
এ ব্রীজে এতো টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়।এখানে সরকারের টাকা লোটপাট হয়েছে, এখন আরো হবে।
আর এর খেসারত জনগণকেই দিতে হচ্ছে ।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেছেন, এই ব্রীজে এতো টাকা খরচ হয়নি, খরচ হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
এ অবস্থায়ও বেইলি ব্রীজ নির্মান করতে যে খরচ দেখানো হয়েছে তা নিয়েও জনসাধারণের মধ্যে সন্দেহ বিরাজমান।
তারা সরকারের দেয়া বরাদ্দ সঠিক ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে কি না বা সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে সরকারের টাকা অপচয় হয়েছে কি না? তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেছেন।
গত এক সপ্তাহে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় এই বেইলি ব্রীজের দু-পাশের গোড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে চরম বিপাকে পড়েন জনসাধারন।
তবে ব্রীজের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যোগাযোগ পুরুপুরি বিচ্ছন্ন হয়ে পড়লে বিকল্প হিসাবে শহীদ মিনার হয়ে ডাক বাংলা রোডের একমাত্র ঝুকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণ চলাচল করছে। এতে পৌর পৌয়েন্টের আশপাশ এলাকায় চরম যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে জনসাধারণকে।
আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের।
গাড়ী চালকরা জানান, নতুন বেইলি ব্রীজ হওয়ার কারনে ওয়ান-ওয়ে রোড করে যানবাহন চলাচলের সুবিধা করে দিলেও বেইলী ব্রিজ নিচু হওয়ায় অল্প পানিতে ডুবে যায়। তাছাড়া ব্রীজের উভয় পাশের রাস্তাও নিচু।
কোন রকম পরিকল্পনা ছাড়াই এ ব্রীজ নির্মান করায় আমরা সবাই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
গাড়ী গুলো পারাপারা করতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করা লাগছে, যার কারণে সময়মত যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্য স্থানে যেতে পারছিনা।
এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী জনসাধারন জানান, ওয়ান-ওয়ে রোড করে দেওয়ার পর আমরা নিয়ম মেনে চলাচল করেছি।
এখন হেলিপ্যাড রোডের ব্রীজটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ডাক বাংলা রোডের সেতু দিয়ে সব গাড়ী চলাচল করায় আমরা পায়ে হেটেও চলাচল করতে পারছিনা।
পরিকল্পনা ছাড়া এত নিচু বেইলী ব্রীজ কেন তৈরী করা হল? একটু উচু করে ব্রীজ তৈরী করা হলে হয়তো আজ এ সমস্যার মধ্যে আমাদেরকে পড়তে হতো না। ব্রীজটি উচু করার জন্য বার বার বলার পরও কেউ এদিকে নজর দেননি। এখন এই দায় কার?
উপজেলা সদরে অবস্থিত দুটি ব্রীজের মধ্যে বড় ব্রীজটি ভেঙে ফেলা হয় গেল ২ মাস পূর্বে। অপরটি হচ্ছে ডাক বাংলা সেতু। সেটিও গেল বছর দেবে যাওয়ায় ঝুকিপূর্ন হিসাবে চলাচলে নিষেধাঙা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।
পরে অবশ্য পৌর পরিষদ, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির আন্তরিকতায় বেইলি ব্রীজের পূরাতন পাঠাতন বসিয়ে সচল করা হলে জনসাধারণের পাশাপাশি যানবাহনও চলাচল শুরু করে।
তবে এ সেতুই এখন চলাচলে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীর একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে ।
এদিকে বেইলী ব্রীজ সংস্কারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে বেইলি ব্রীজটি পানিতে তলিয়ে গেছে এটা সত্য, তবে জনসাধারণের চলাচলের জন্য বেইলি ব্রীজ উপযোগী করার প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply