জহিরুল ইসলাম লাল ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বিশাল উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশে কথাকাটাকাটির জেরে দুটি গ্রুপের মধ্যেই হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
এতে একপক্ষ বয়কটের ঘোষণা দিলেও অন্যপক্ষ সভার কায্য চালিয়ে যান।
ফলে সভাস্থল ছাড়াও পৌর শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সমাবেশস্থলে পুলিশের তৎপরতা থাকায় অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সমাবেশে যে জনসমাগম হওয়ার কথা ছিল তা না হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ছিল চোঁখে পড়ার মত।
পরে টান টান উত্তেজনার মধ্যদিয়ে উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশনায় সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনসম্মুখে প্রচার ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ২ টায় জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে এক বিশাল শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সভা পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু।
এক পর্যায়ে সভা অনুষ্ঠিত হলে মঞ্চে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের নাম ও পদবি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ( পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) মিজানুর রশীদ ভূঁইয়ার নাম সহ সভাপতি হিসাবে ঘোষণা করে, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সিদ্দিক আহমদকে সভাপতিত্ব করার জন্য নাম ঘোষণা করা হয়। এতে মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া এর কারণ জানতে চাইলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কোন সদুত্তর না দেয়ায় মাইকে তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও জনতার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাইলে তার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়া হয়।
এ সময় মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া মঞ্চে তিনি প্রকাশ্যে বয়কটের ঘোষণা দিলে তিনি ও তার অনুসারীরা সমাবেশস্থল ত্যাগ করে চলে যান।
শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম প্রমূখ।
এতে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে শেখ হাসিনা সরকারের বিকল্প নেই। দেশের মানুষ উন্নয়ন চায়, সহিংসতা চায়না।
যারা জ্বালাও পোড়ায় করে ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের স্বপ্নকে রুখবে এদেশের জনগণ। তিনি বলেন জনগনের ভার্গোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এসব উন্নয়ন আর কোন সরকারের আমলে হয়নি।
তিনি বলেন আওয়ামী লীগ সরকার আবারও ক্ষমতায় এলে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটবে। উন্নয়নের জন্য আবারও নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে বিকেল সাড়ে তিনটায় সমাবেশ স্থলের অদূরে জগন্নাথপুর টিএন্ডটি রোডস্থ পুরাতন কাঠবাজারে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি (পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) মিজানুর রশীদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদির আহমদের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুল জব্বার, সাবেক কাউন্সিলর আবাব মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আব্দুর রাজ্জাক, শুকুর আলী, সুরত খাঁ, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃ নানু মিয়া, সৈয়দ তুরন মিয়া. পাইলগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কয়সর রশিদ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল মিয়া প্রমুখ।
সভায় মিজানুর রশীদ ভূইয়া বলেন সাংগঠনিকভাবে কোন রীতিনীতি না মেনে দল পরিচালিত হচ্ছে। শান্তি সমাবেশের নামে তথাকথিত আওয়ামীলীগ নেতারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
আমি উপজেলা আওয়ামীলীগের বৈধ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমাকে অবমূল্যান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি।
Leave a Reply