জহিরুল ইসলাম লাল ::
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে ৭জন প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফিজ শেখ মুশতাক আহমেদ (দেয়ালঘড়ি) নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ও স্বতন্ত্র তালা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।
অনেকেই মনে করছেন, ভোটের মাঠে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ এগিয়ে রয়েছেন।
তবে এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাত পোহালেই ভোট, ভোটাররা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কে হাসবেন বিজয়ের হাঁসি।
সারা দেশের ন্যায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -৩ আসনে আজ (১১ ফেব্রুয়ারী) বুধবার প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যার যার ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন।
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ ৩ আসনে এবার ৭জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে লড়ছেন।
এরমধ্যে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ (দেয়াল ঘড়ি) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তবে প্রদর্শিত ব্যালেট পেপারে ৭টি প্রতীক থাকলেও মুলত ভোটযুদ্ধে ৬জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনী শেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন, নিজ দলীয় সমর্থন সহ জাতীয় পার্টি ও আন্জুমানে আল ইসলাহ’র সমর্থন আদায়ে প্রাণপন চেষ্টা করেছেন।
এছাড়াও বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের অংশ গ্রহণে নির্বাচনী ভোটের মাঠ ছিলো সরগরম। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে আলোচনায় রয়েছেন।
প্রথমে তার কোন আলোচনা না থাকলেও এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি।
তার নিজ এলাকা শান্তিগঞ্জের আঞ্চলিকতা তৈরি করে ধানের শীষকে টপকাতে এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত ভোটকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন।
এছাড়া তার সাথে বিএনপির একটি বহিস্কৃত শক্তিশালী অংশ মাঠে কাজ করেছে।
ভোটাররা বলছেন, আঞ্চলিকতার ঠানে আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি তার উপজেলা শান্তিগঞ্জের প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে সংঘত কারণেই সমর্থন দেয়ায় ভোটের হিসাব পাল্টে গেছে।
এ আসনে ১০ দলীয় জোটের দুইজন প্রার্থী দল-বদলসহ নানা সমালোচনায় পড়ে মুল লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন।
জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে একাধিক বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভাষা সৈনিক ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী তার ছোট ভাই ফারুক রশীদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ ইং থেকে একটানা ২০২৪ ইং পর্যন্ত আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে এম এ মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অর্থ-পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে সকলেই এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে এ আসনের ভোটাররা মনে করছেন।। ২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর ঘোষিত উপ-নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট শাহীনুুর পাশা চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান শামসুল আবেদীন ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গুলজার আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের দলীয় কোন প্রার্থী না থাকায় ভোটের সমীকরণ অনেকটা বদলে গেছে এ আসনের। দলগুলোর ভোট টানার ওপর জয়-পরাজয় অনেকটা নির্ভর করছে। জনমত পর্যালোচনায় ও ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, মুল লড়াই হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমেদের সাথে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বহিস্কার) ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেনের।
কারণ ১০ দলীয় জোটের একক কোন প্রার্থী না থাকায় এ আসনে ধুম্রজালের সৃষ্টি হওয়ায় ভোটের লড়াই থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এ জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী রিকশা প্রতীকে লড়ছেন। অপরদিকে আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ঈগল পাখি প্রতীকে লড়ছেন। তাঁরা দুইজনই মুল লড়াইয়ে ফিরে আসার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সৈয়দ তালহা আলম শেষমেশ প্রতিদ্বন্ধীতায় আসলে ত্রিমূখী লড়াই হবে বলেও আশংকা রয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসিন খাঁন ১০ দলীয় জোটের প্রাথী থাকলে ভোটের মাঠে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে পারতেন।
তবে জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে কাউকে সমর্থন না দিয়ে ভোট থেকে দূরে রয়েছেন বলেও জানা যায়।
এ আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোট টানতে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কয়ছর আহমেদ ও আনোয়ার হোসেন।
নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফিজ মুশতাক আহমেদ দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। তিনিও কাউকে সমর্থন দেননি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ফুটবল প্রতীক ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুল খালেদ তুষার টেবিল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।
একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০হাজার ৬২৯ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮হাজার ২৮৩ জন।
অপরদিকে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত শান্তিগঞ্জ উপজেলার পুরুষ ভোটার ৭৮ হাজার ৬১৪ জন ও মহিলা ভোটার ৭৫ হাজার ৪৮৪ জন।
Leave a Reply