স্টাফ রির্পোটার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ২নং পাটলী ইউনিয়নের শাসন গ্রামের সিতারা বেগম (৫০) নামের এক অসহায় নারী এলাকার প্রভাবশালী চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এই অসহায় নারীর শেষ সম্বল হাঁস বিক্রি করে দেয়া ৬০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় স-পরিবারে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হলে
তিনি ন্যায় বিচারের আশায় বিভিন্ন মহলের কাছে ধর্না দিয়েও কোন সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে সংবাদ সম্মেলন করে সরকার ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টস্থ মাহিমা পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অসহায় এই নারী স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে তার উপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিতারা বেগম বলেন, তার প্রতিবন্ধী ছেলে মোঃ সায়েস্তা মিয়া একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন সময়ে সাচায়ানী গ্রামের মৃত আয়াজ উল্লাহর ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ নুরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী স্থানীয় জামায়াত নেতা ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী তৈয়বুর রহমান তার ছেলেকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনতে বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় ছেলেকে ফাঁসির ভয় দেখিয়ে তারা সিতারা বেগমের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। এমন কথা শুনে সিতারা বেগম ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন এবং ছেলেকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনতে ওই অসহায় নারী তার পালিত ২৫০টি হাঁস বিক্রি করে দাবিকৃত ৬০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম ও জামাত নেতা তৈয়বুর রহমান ছেলেকে মুক্ত করার কোনো উদ্যোগ না নিয়ে ছাড়িয়ে আনতে সময় ক্ষেপন করেন এবং বিভিন্ন অপ-কৌশলের মাধ্যমে টাকাগুলো আত্মসাৎ এর আশ্রয় নেয়।
পরবর্তীতে সিতারা বেগম তার ঘর বন্ধক রেখে ও গরু বিক্রি করে আইনের মাধ্যমে ছেলেকে জামিনে মুক্ত করান।
তিনি আরো জানান, পাওনা ৬০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অদূর ভবিষ্যতে এই টাকা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে গ্রামছাড়ার হুমকি দেয়।
বিচারের আশায় অসহায় সিতারা বেগম এলাকার বিভিন্ন মহলে ধর্না দিলেও কোন সূরাহা হয়নি বরং উল্টো তার পরিবারের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের খরগ নামে।গত ২২ মার্চ যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম সিতারা বেগমের বাড়িতে ঢুকে তাকে স্বশরীরে লাঞ্ছিত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বর্তমানে এই প্রভাবশালী চক্র গ্রামের অসহায় সিতারা বেগম ও তার পরিবারকে গ্রামছাড়া এবং ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন। সিতারা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “আমি আমার পালিত হাঁসগুলো বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলাম।
এই হাঁসগুলোই ছিলো আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা।
কিন্তু এই হাঁস বিক্রির দেয়া টাকা ফেরত চাইলে তারা আমাকে গালিগালাজ ও মারধর করে এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
আমি আমার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
সিতারা বেগম আরও জানান, গত ২২ মার্চ তিনি জগন্নাথপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বরং হুমকির মাত্রা দিন দিন আরো বাড়ছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, যুবদল নেতার উপর অভিযোগ করায় আমার অভিযোগের কোন তদন্তই হয়নি, তাহলে কি দেশে আইনের কোন শাসন নেই।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত আত্মসাৎকৃত ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অসহায় নারীর ওপর হামলাকারী এবং হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
Leave a Reply