নেত্রকোনা প্রতিনিধি::
পরিবেশ অনুকুলে থাকায় নেত্রকোনায় বোরো ধানের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ধানের ফলনও ভাল হওয়ায় জেলার ১০ উপজেলায় সরকারীভাবে শুরু হয়েছে আভ্যন্তরীন ধান-চাল ক্রয় অভিযান।
সোমবার (১৫ মে) জেলার সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে আভ্যন্তরীন ধান-চাল ক্রয়ের উদ্বোধন করেন নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
এসময় অন্যান্যেদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: মোয়েতাছেমুর রহমান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, সদর খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম ফজলে রাব্বী রানা প্রমূখ।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, কোন রকম হয়রানি ছাড়াই কৃষকরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ধান সহজেই গুদামে দিতে পারে, সেজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: মোয়েতাছেমুর রহমান জানান, জেলায় ধান চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১ শত ৭৭ মেট্রিকটন ধান এবং ৬১ হাজার ২ শত ১৮ মেঃ টন চাল ।
চাল সিদ্ব প্রতিকেজি ৪৪ টাকা ও ধান প্রতিকেজি ৩০ টাকা দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনপ্রতি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে তিন মেঃটন ধান ক্রয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নেত্রকোনা সদর, দুর্গাপুর ও মদন উপজেলার কৃষকরা অ্যাপসে আবেদনের মাধ্যমে ও অন্য সাত উপজেলার কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলমান থাকবে।
নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে এবার জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪ শত ৭০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিধার্রণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৫ টন । ইতিমধ্যে জেলার ১০টি উপজেলায় ধান কাটা ৯৫ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি এইচ আর খান পাঠান সাখি জানান, সরকারীভাবে ধান চাল ক্রয় অভিযান শুরু হওয়ায় নেত্রকোণা জেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাবে।
Leave a Reply