স্টাফ রির্পোটার : :
জগন্নাথপুরের ইনাতগঞ্জ বাজারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নবীগঞ্জের হাবিবুর রহমান, ফরিদ আহমদ ও সইবুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এই তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।
এদিকে ঘটনার পর জগন্নাথপুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হলেও অদৃশ্য কারণে আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি জগন্নাথপুর থানা পুলিশ। থানার এস আই মিজানুর রহমানের সাথে আসামিদের সক্ষতা থাকার প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষ।
তবে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর পরও আসামীরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
এলাকার নিরিহ অনেকেই জানান , হাবিবুর রহমান ও ফরিদ আহমদ জামায়াতের সক্রিয় নেতা এবং সইবুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
এলাকায় তাদের একটি শক্তিশালী বাহিনী রয়েছে। তাদের দিয়েই নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন তারা।
বিশেষকরে নিরীহ লোকজন তাদের কাছে জিম্মি।
প্রসঙ্গঁত : হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার লতিবপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে মোঃ ফরিদ আহমদ ও একই থানার বানিউন গ্রামের মোঃ আমীর উদ্দিনের ছেলে জুবায়েল আহমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল।
উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ আগষ্ট রাত ৮ টায় জুয়েল আহমেদ রুহেল ও তার ছোট ভাই জুবায়েল আহমেদ নবীগঞ্জ থানার পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুর থানার (রানীগঞ্জ রোডস্থ) স্থানীয় ইনাতগঞ্জ পূর্ব বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা প্রতিপক্ষ ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে, হাবিবুর রহমান ও সইবুর সহ তার লোকজন দেশীয় দাড়ালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জুয়েল আহমদ রুহেল ও জুবায়েল আহমদের উপর প্রকাশ্যে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় জুয়েল (২৮) ও জুবায়েল (২৪) পাশ্ববর্তী জুমন স্টোর নামক একটি দোকানে ঢুকলে সেখানে ঢুকেও ফিল্মি স্টাইলে তাদেরকে রামদা ও ছুরিকাঘাত করে মূহুর্তেই পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে প্রতিবেশিরা গুরুতর আহত অবস্থায় জুয়েল ও জুবায়েলকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে পরদিন জুবায়েলকে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় আহতদের ভগ্নিপতি মোঃ রিপন আহমদ বাদী হয়ে ফরিদ আহমদকে প্রধান আসামী করে ৪ জন সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা ১১ তারিখ ২০/০৮/২০২৩ ইং।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী রিপন আহমদ বলেন মামলা করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। জগন্নাথপুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করলেও পুলিশ আসামিকে অদৃশ্য কারণে ধরেনি। আসামিরা মাননীয় আদালতকে অবজ্ঞা করায় আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছেন।
পুলিশ আন্তরিক হলেই আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব।
বর্তমানে প্রভাবশালী আসামিদের হুমকি জনিত কারণে আমরা সবাই নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
জ/ডা/শা/২৩/১০/২৪
Leave a Reply