স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফের বাড়ছে নদ-নদীর পানি। মেঘালয় সীমান্তের কাছে তাহিরপুর উপজেলার চাড়াগাঁও এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবেশ করায় তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল ক্রমেই পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে।
এতে তাহিরপুর উপজেলায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১ জুলাই ) থেকে সুরমা যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীসহ সুনামগঞ্জের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।
গত কিছুদিন আগের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আগেই আবারও বন্যার কবলে পড়েছেন তাহিরপুরের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত সপ্তাহে উপজেলার বাদাঘাট, দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নসহ ৭টি ইউনিয়নের বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী ও হাওরের পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এসব এলাকার কয়েক শতাধিক গ্রামের মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া নতুন ভাবে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা রুবেল আহমদ জানান, আমরা হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা প্রকৃতির কাছে অসহায়। আমাদেরকে প্রতি বছরেই বর্ষায় হাওরের বড় বড় ঢেউয়ের আগাত থেকে ঘর বাড়ি ও জীবন রক্ষায় প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।
হাওর পাড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা নেই। গত কিছুদিন আগে বন্যা হয়েছে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে, এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব এবং কি খাবো এই নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
বর্তমানে হাওর পাড়ের বাসিন্দারা বড় অসহায় হয়ে পড়েছে।
আমাদের দুঃখের কথা কেই বা শুনবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ফের বাড়ছে তাহিরপুরের নদ-নদীর পানি তাই আবারও হয়েছে তাহিরপুরে বন্যা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি।
কোথাও কোনো সমস্যার খবর পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি, উপজেলা পরিষদের তরফ থেকে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা মজুদ রয়েছে এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নাই।
Leave a Reply