স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজিনগরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমকে নিয়ে দিনভর গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
জমিয়তের বিবদ’মান দুটি গ্রুপের মধ্যে অপর গ্রুপের নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজিনগরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সৈয়দ তালহা আলমের ইন্ধন রয়েছে কি না জনমনে এমন প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে ।
ফলে দিনভর সৈয়দ তালহা আলমকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনার জেরে জমিয়তের একাংশের (সৈয়দ তালহা বলয়ের) শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় সন্ধেহ আরো গণীভূত হয়।
সোমবার ভোর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিলেট শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গত বুধবার বিকেলে মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজি নগরীর স্ত্রী রুবি বেগম তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর ২ দিন পর শুক্রবার সকালে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের (পুরাতন) সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মুশতাকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুশতাকের স্ত্রী রুবি বেগম রোববার রাতে জমিয়তের অপরাংশের (মুফতি ওয়াক্কাস গ্রুপ) শান্তিগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনকে আসামি করে দিরাই থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন।
এরই আলোকে ভোর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিলেট শহর থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃত হাফিজ সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় জমিয়তের প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলমের সমর্থক ও পাথারিয়া ইউনিয়নের দরগাপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অপরদিকে মাওলানা মুশতাক আহমদ জমিয়তের (ক্বাসেমী গ্রুপ) সুনামগঞ্জ-৩ আসনের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজিনগরীর সমর্থক।
তবে জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজিনগরী সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (মুফতি ওয়াক্কাস গ্রুপ) ও অপর প্রার্থী মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজিনগরী (ক্বাসেমী গ্রুপ) এর দ্বন্দ্বের বলি কি না খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দায়েরকৃত মামলায় আব্দুল হাফিজ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে, ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।।
এদিকে জমিয়তের একাংশের সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, মুশতাক গাজিনগরীর ‘মৃত্যু রহস্য মামলায় আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে দিরাই থানা পুলিশ ‘সন্দেহজনকভাবে’ গ্রেপ্তার করে। তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এমন পোস্টের পর পরই সৈয়দ তালহা আলম সংবাদ সম্মেলন করে মাওলানা মুশতাক আহমেদ গাজিনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জগন্নাথপুরে’র একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাওঃ মুশতাক আহমদ গাজিনগরীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল মব জাস্টিসের মাধ্যমে নানা পাঁয়তারা করছে।
এমন কি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন আমার সিলেট নগরীর সেনপাড়াস্থ বাসায় এক জমিয়ত নেতার সন্ধানে যায়। পরে ফোন দিয়ে আমি ওই নেতাকে আত্মসমর্পণ করার জন্য বলে দেই।
পরবর্তীতে জানতে পারি, মব জাস্টিসের মাধ্যমে সূর্যাস্তের আগে গ্রেপ্তার দেখাতে একটি মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আল্টিমেটাম দেয়।
এ ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কোন ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়া একটি নিরীহ আলেম সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তাড়াতাড়ি প্রকাশের জন্য প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন সৈয়দ তালহা আলম।
তিনি জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় অপর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাম্মাদ গাজিনগরী ও মাওলানা তৈয়বুর রহমানকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো সব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন সংবাদ সম্মেলনে।
Leave a Reply