স্টাফ রির্পোটার ::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের আঘাতে এসিডে ঝলসে যাওয়া বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এসিড দগ্ধ রিটু মিয়া বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের উত্তর নাদামপুর গ্রামের মৃত তারিফ উল্লার ছেলে রিটু মিয়া ও বড় ভাই টিটু মিয়ার মধ্যে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জের ধরে তাদের মধ্যে সব সময় ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো।
এ নিয়ে রিটু মিয়া সম্প্রতি তার ভাই-ভাতিজাদেরকে বিবাদী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ভাই টিটু সহ অন্যরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
গত ১৫ জুলাই জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষ করে যাওয়ার পর দুপুর অনুমান ১ ঘটিকার সময় বিবাদী টিটু মিয়া অন্যান্য বিবাদীদের সাথে নিয়ে রিটু মিয়াকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করে দিবে বলে হুমকি দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধোর ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিবাদী টিটু মিয়ার ছেলে জাবের মিয়া ও বাদশা মিয়া বোতলে থাকা এসিড জাতীয় ব্যাটারীর পানি নিক্ষেপ করলে রিটু মিয়া ও তার স্ত্রী সুমেনা বেগমের মূখ, কপাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় রিটু মিয়া (৪২) ও সুমেনা বেগম (৩২) শিশু কন্যা হাজেরা বেগম (১৩) ও দিপু মিয়া (২৬) কে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মূখ ঝলসে যাওয়া রিটু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাই টিটু মিয়া ইতোপূর্বে আমার কাছে তার জায়গা বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়।
কয়েক বছর পর বাড়ীতে এসে আমার কাছে তিনি আশ্রয় চান।
ভাই হওয়ায় মানবিক কারণে আমি সে ও তার পরিবারকে থাকার জায়গা দেই কিন্তু এখন তারা বাড়ি ছাড়বে দূরের কথা আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। তাদের নানান জ্বালা-যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ঠ।
আমি ও আমার পরিবারকে তারা এসিডে ঝলসে দিয়েছে। উক্ত ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগ তুলে নিতে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তারা আমাকে ভিটাচ্যুত করতে ঘর-বাড়ি জ্বালিয়েও দিতে পারে।
বর্তমানে আমাদের কোন নিরাপত্তা নাই।
এদিকে প্রতিপক্ষ টিটু মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার এস আই রফিক জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি।
তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি, তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
Leave a Reply