জহিরুল ইসলাম লাল : :
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী প্রথম বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এদেশের মানুষকে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে সারাবিশ্বে আমরা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করতে পারি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভোট ডাকাতরা আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। সকল ষড়যন্ত্র আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
এ সময় তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ গুম ও নির্যাতনের শিকার সকল নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
বক্তব্যে তিনি ওমরাহ হজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করেন, “কাবা ঘরের মালিক কে?” উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘আল্লাহ’ জবাব দিলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সকল অধিকার এবং সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ধর্মের অপব্যবহার করছে এবং ধর্মের নামে ভোটের রাজনীতি করছে।
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের ভূমিকা দেশবাসী জানেন। এদেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের এবং দেশপ্রেমিকদের দল।
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং শহীদ জিয়ার জনপ্রিয় ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হবে।
এর আগে বুধবার সিলেটে পৌঁছেই তিনি ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নে তাঁর শ্বশুরবাড়ি (সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মাহবুব আলীর বাড়ি) বিরাহিমপুরে অবস্থান করেন। সেখানে ‘এলাকার জামাই’ হিসেবে তাঁকে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেয়া হলে
সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাখেন।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে প্রতীকে ভোট চেয়ে এবং সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
পরে তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার জনসভা শেষে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হন।

সংক্ষেপে- টুকিটাকি :
লাখো জনতার উপস্থিতিতে বিএনপির এ সমাবেশ শুরু হয় সকাল ১০ টায়। এর আগ থেকেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ নেতাকর্মীদের পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠে।
চলছিলো কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য।
১২.৩০ মিনিটে মঞ্চে উপস্থিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঞ্চে উটার সময় পা থেকে জুতা খুলতে গিয়ে নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে কাউকে জুতা চুইতে না দিয়েই, নিজের জুতা নিজেই হাতে নিলেন তারেক রহমান।
স্ট্রেইজে উটার পর নেতারা ঝেঁকে বসলে তিনি নিজেই এসব নেতাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
প্রথমে দুহাত নাড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
পরে আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম বলে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় আপনারা ভালা আছইনি বলে সবার মন কারেন।
১২.৫৭ মিনিটে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেন, চলে ১.২২ মিনিট পর্যন্ত।
এর মধ্যে জোহরের আযান শুনে বক্তব্য থামিয়ে দেন তারেক রহমান।
১.১৫ মিনিটে বিশাল জনসভা স্থল থেকে ওমরা হজ্ব পালনকারী একজন বৃদ্ধাকে খুঁজে নেন তিনি, স্ট্রেইজে উঠামাত্র দেখা যায় তিনি আর কেউ নন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাজী এটি এম হেলাল।
বিশেষকরে দুলাভাই, দুলাভাই কন্ঠে মুখরিত ছিলো সিলেট আলিয়া ময়দান।
সিলেটের মেয়ে ডাঃ জুবাইদা রহমান তিনি মঞ্চে স্বামী তারেক রহমানের বাম পাশে বসা থাকলেও তিনি কোন বক্তব্য দেননি।
এছাড়া দলের কোন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে না দিয়ে তারেক রহমান ভোট চান ধানের শীষ প্রতীকে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ছিল সিলেট যানজটের নগরী। আশপাশের সড়কগুলোতে ছিলো নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভীড়, তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে তাদের মধ্যে বাড়তি আমেজ ছিল লক্ষনীয়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীদের পদভারে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত ছিল শহরের জিন্দাবাজার সহ গুরুত্বপূর্ন এলাকা।
তবে যানজটের কারনে শহরে গাড়ী ঢুকতে পারেনি, কিছু ছোট গাড়ীগুলো চলাচল করলেও যাত্রীদের অধিক ভাড়া গুনতে হয়েছে।
সমাবেশকে ঘিরে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহর জুড়ে চিলো তৎপর।
Leave a Reply