স্টাফ রিপোটার : :
একের পর এক মামলা ও থানায় জি ডি থাকার পরও নানা অভিযোগে অভিযুক্ত সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকার অবৈধভাবে টিলা কাটা সিন্ডিকেট প্রধান জালাল উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।
সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা ফলে তার খুঁটির জোর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে অন্যতম, সিলেট নগরীর উত্তর বালুচর এলাকায় অবৈধভাবে প্রকাশ্যে টিলা কেটে উক্ত মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এতে পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় কর্তা ব্যাক্তিরাও এসবে জড়িত বলে লোকমূখে শোনা যাচ্ছে ফলে যেমন পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, তেমন সরকার বাহাদুরও বিপুল পরিমানের রাজস্ব হারাচ্ছে।
বালুচর এলাকায় কথিত জালালের রাজত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি, হামলা, মামলাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তার নামে দায়েরকৃত তিনটি মামলার পাশাপাশি, পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনি পদক্ষেপ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
শাহপরান থানা এলাকার জোনাকী আবাসিক এলাকার মৃত সাহেব আলীর ছেলে জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সিলেট নগরীর উত্তর বালুচরের সাদীপুর প্রথম খণ্ড মৌজার এসএ ১১২ নম্বর খতিয়ানের ৬৩ নম্বর দাগে অবস্থিত করিম উল্লাহ টিলা, যা স্থানীয়ভাবে দৃশ্যমান ও রেকর্ডীয় টিলা নামেও পরিচিত, সেই টিলা কেটে মাটি বিক্রির দায়ে জালাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গত ১৮ আগস্ট একটি মামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার টিলা থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে বাসা বাড়িতে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে টিলার স্বাভাবিক ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল উত্তর বালুচরের টিলা কাটার বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।
ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরকে পরবর্তী সময়ে রাস্তায় একা পেয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জালাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জালাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে থানার এস আই জুয়েল চৌধুরী গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন (অভিযোগপত্র) আদালতে পাঠান।
টিলা কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অন্যায়ের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ফেইক ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপ-প্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে ‘সিলেট বালুচরের নিউজ’, ‘Ma Talukdar’ ও ‘ব্যাটারি গলি’ নামের কয়েকটি আইডি বা পেজের মাধ্যমে নানা অপপ্রচার করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব মাধ্যম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, মানহানিকর পোস্ট এবং আপত্তিকর ছবি প্রচার করা হয়েছে, যা মানহানিকর সামিল।
অভিযোগের একটি অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরির কথাও বলা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সামাজিকভাবে হেয় করা এবং মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ঘটনায় জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ২০ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি দল তদন্ত করছেন।
এছাড়াও জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ০১ সেপ্টেম্বর, ২৯ সেপ্টেম্বর ও ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৩ মার্চ পৃথক পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী জনসাধারণ শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
এব্যাপারে জালাল উদ্দীনসহ জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply